সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবার নিজেই রাজপথে নামলেন ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক। আজ শনিবার সকাল ১০টায় এক ব্যতিক্রমী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে দোহার-নবাবগঞ্জের জনপদকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক নবাবগঞ্জ চৌরাস্তার ঐতিহ্যবাহী কায়কোবাদ চত্বরের পাশে জমে থাকা আবর্জনা নিজ হাতে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করছেন। কেবল প্রতীকী অংশগ্রহণ নয়, বরং তিনি নিজেই কোদাল ব্যবহার করে ময়লা-আবর্জনা ঝুড়িতে তুলে দেন। এরপর তিনি জেলা পরিষদ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন এবং যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য অপসারণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান। জনসাধারণের মধ্যে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে তার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
সড়ক পরিষ্কার শেষে এমপি আবু আশফাক সরাসরি চলে যান নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে। সেখানে হাসপাতালের আঙিনা পরিষ্কার করার পর তিনি হাসপাতালের ভেতর ও বাইরের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীদের শয্যার পাশে গিয়ে তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার বা অস্ত্রোপচারকক্ষ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় অস্ত্রোপচারকক্ষের দেয়ালের আস্তর খসে পড়া দেখে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাকে তলব করে তিনি জরাজীর্ণ কক্ষটি দ্রুত সংস্কারের কঠোর নির্দেশনা দেন।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খন্দকার আবু আশফাক বলেন, "সরকার সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য সব ধরনের বরাদ্দ ও সুব্যবস্থা রাখা সত্ত্বেও রোগীরা কেন যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন? স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।" তিনি চিকিৎসক ও সেবিকাদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, হাসপাতালে আসা প্রতিটি মানুষ যেন সমান এবং মানসম্মত চিকিৎসা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শামসুল আলম খান, চিকিৎসক হরগোবিন্দ সরকার এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুস সালাম। এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবুল কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুষার আহমেদ এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইসতিয়াক চৌধুরীসহ স্থানীয় অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।