এক মাসে দেশে ৪১ শিশুর মৃত্যু: এবার চট্টগ্রামের তিন হাসপাতালে শিশুদের ‘হাম কর্নারে’ ভিড়।

 দেশজুড়ে সংক্রামক ব্যাধি হামের (Measles) প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন এক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গত এক সপ্তাহে দুই শিশুর শরীরে আনুষ্ঠানিকভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগ নড়েচড়ে বসেছে। বর্তমানে আক্রান্ত দুই শিশুর মধ্যে একজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এবং অপরজন চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে কেবল এই দুজনই নয়, আরও অন্তত ২৮ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে।


চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে একজনের বয়স মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস, যার বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলায়। সে বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্য শিশুটির বয়স পাঁচ মাস এবং তার বাড়ি হাটহাজারী এলাকায়; সে চিকিৎসা নিচ্ছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে। সংক্রমণের ব্যাপকতা নিশ্চিত করতে এবং ভাইরাসের গতিপ্রকৃতি বুঝতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে মোট ৪০ জন শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে উন্নত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।


চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে সেখানে ১৮ জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে একজনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে এবং বাকি ১৭ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, মা ও শিশু হাসপাতালে ৯ জন এবং চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে একজন শিশু ভর্তি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভর্তি হওয়া শিশুদের অধিকাংশেরই বয়স ১৫ মাসের নিচে এবং তাদের শরীরে তীব্র জ্বর, লালচে র‍্যাশ ও নিউমোনিয়ার মতো জটিল উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালগুলোতে আলাদা ‘হাম কর্নার’ (Measles Corner) চালু করে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


স্বাস্থ্য বিষয়ের আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি নিয়মিত না হওয়া এবং অনেক শিশু রুটিন ভ্যাকসিনেশন থেকে বাদ পড়ায় এই সংকটের সূত্রপাত হয়েছে। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর গত ১০ জানুয়ারি সেখানে রেড এলার্ট বা সতর্কতা জারি করা হয়। চলতি মাসেই দেশজুড়ে হামে ৪১ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।


চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, "৪০ জনের নমুনা আমরা ঢাকায় পাঠিয়েছি। বর্তমানে ২৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকলেও বাকি ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।" জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচির পরিধি না বাড়ালে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন না করলে এই ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।