বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডাকযোগে সাদা কাফনের কাপড় এবং প্রাণনাশের হুমকিসংবলিত চিঠি পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম নিরাপত্তা সংকটের কথা বিবেচনা করে আগামী ১০ এপ্রিল নির্ধারিত বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৫ মার্চ) বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক নোটিশের মাধ্যমে এই স্থগিতাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি চিহ্নিত মহল দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর, অরুচিকর এবং পেশাগত শিষ্টাচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এমনকি নির্বাচনের দিন বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে আরও জানানো হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের ঠিকানায় ডাক বিভাগের ‘জিইপি’ (GEP) সার্ভিসের মাধ্যমে হুমকিমূলক চিঠি পাঠানো হয়েছে। শুধু ডাকযোগেই নয়, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কমিশনারদের ব্যক্তিগত বাসভবনের দরজার নিচ দিয়েও জীবননাশের হুমকি সংবলিত উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছে। এমন ‘ডেডলাইন’ ও হুমকির মুখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করা অসম্ভব বলে মনে করছে কমিশন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি চিঠিতে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কমিশনের সদস্য অ্যাডভোকেট আ. লতিফ ফরাজীর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, “নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পাতানো নির্বাচন বন্ধ কর, নতুবা তোমাদের পরিণতি সাদা কাফন।” চিঠির সঙ্গে সাদা কাপড়ের টুকরো যুক্ত করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট লতিফ ফরাজি বলেন, “আজ সকালে আমরা যখন ডাকযোগে আসা খামগুলো খুলি, তখন সেখানে সাদা কাফনের কাপড় দেখতে পাই। চিঠিতে অত্যন্ত উগ্র ভাষায় আমাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাঁচজন কমিশনারের প্রত্যেকের নামেই এমন চিঠি এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন স্থগিত করার যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
আইনজীবী সমিতির এই নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণত একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করার কথা থাকলেও, এবারের ঘটনা বরগুনার আইন অঙ্গনে থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সাধারণ আইনজীবীরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তবে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম এই বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, পুলিশের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বরগুনা বার সমিতির নির্বাচনের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।