ইরানের বিধ্বংসী হামলায় ভেস্তে গেল ২৫ বছরের ছক: মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ট্রাম্পের গোপন পরিকল্পনা ফাঁস!

 মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি ও স্থায়ী ঘাঁটির বিন্যাস নাটকীয়ভাবে সংকুচিত করার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে ওয়াশিংটন। ইরানের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আঞ্চলিক সমীকরণ ওলটপালট হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অন্তত ছয়টি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের তথ্যমতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যদি তেহরানের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের একটি কার্যকর সমাপ্তি টানতে পারে, তবে আগামী বছর থেকেই সেখান থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার ও কৌশলগত ঘাঁটিগুলোর তৎপরতা গুটিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এই বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারকেরা পর্দার আড়ালে গভীর আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

হোয়াইট হাউসের এই ভাবনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হলে তা হবে ২০০১ সালের নাইন-ইলেভেন পরবর্তী মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের সবচেয়ে বড় ও মৌলিক রূপান্তর। গত আড়াই দশকে মধ্যপ্রাচ্যের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কিংবা সেখান থেকে সরে আসার বহু উদ্যোগ ওয়াশিংটন নিয়েছিল। তবে ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র সংঘাত এবং তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’-এর নামে বারবার মধ্যপ্রাচ্যের চোরাবালিতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বর্তমানে ভূকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের প্রায় ৫০ হাজার সেনাসদস্য নিয়োজিত আছেন। পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোতায়েন রাখা হয়েছে দুটি বিশালাকার বিমানবাহী রণতরি এবং এক ডজনেরও বেশি অত্যাধুনিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার (ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ)। তবে গত কয়েক মাস ধরে ইরানের সঙ্গে সরাসরি ও তাদের প্রক্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চলা সামরিক সংঘাতে মার্কিন স্থাপনাগুলোর মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতা ও কাঠামোগত দুর্বলতা প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে। ইরানের ঝাঁকে ঝাঁকে ছোড়া ড্রোন ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে। পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

আলোচনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সামরিক ও শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংঘাত-পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির আকার ঠিক কতটা রাখা যুক্তিযুক্ত হবে, তা নিয়ে নানামুখী বিকল্প পথ খোঁজা হচ্ছে। এর মধ্যে বড় ধরনের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক অবকাঠামোগুলো আর নতুন করে পুনর্নির্মাণ না করা এবং স্পর্শকাতর বিশেষ অভিযানগুলো কোনো স্থায়ী ঘাঁটি ছাড়াই রিমোট বা ভ্রাম্যমাণ উপায়ে পরিচালনার বিষয়টি জোরালোভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ঘাঁটি মাটির নিচে স্থানান্তরের ঝুঁকিপূর্ণ ছক
অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার বিষয়ে অবগত দুটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সংঘাত বন্ধের পরও মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত অবস্থানের কারণে যেসব মার্কিন সেনাকে সেখানে অবস্থান করতে হবে, তাঁদের প্রাণহানি ঠেকাতে অভূতপূর্ব সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে ভূপৃষ্ঠের সামরিক অবকাঠামোগুলোকে সম্পূর্ণভাবে মাটির নিচে বা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ইরানের ক্রমবর্ধমান নিখুঁত ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রচলিত ঘাঁটিগুলোর দুর্বলতা উন্মোচিত হওয়ার পরই মূলত এই ভাবনাটি গতি পেয়েছে।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষ এক মার্কিন কর্মকর্তা ক্ষোভের সুরে জানান, ‘আমাদের ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তাগত এই ফাঁকফোকড় ও দুর্বলতার বিষয়টি অনেক আগে থেকেই সবার জানা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কখনোই সময়মতো বিষয়টিকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দিয়ে জরুরি সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেয়নি।’

সূত্রগুলো আরও জানায়, আগামী বছর থেকে কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে সেনা মোতায়েনের রূপরেখা পরিবর্তনের বেশ কিছু বিকল্প ব্লু-প্রিন্ট প্রস্তুত করেছে। তবে বাস্তবতা হলো, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আগুন এখনো জ্বলতে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিমান ঘাঁটি বা হামলার লঞ্চপ্যাডগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ খালি করার কোনো সম্ভাবনা নেই। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ ধরনের স্পর্শকাতর অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এক কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতের সেনা মোতায়েনের কাঠামো কেমন হবে, তা নিয়ে এখনই কোনো ধরনের আগাম মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। একই সুরে মুখে কুলুপ এঁটেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-ও।

নাইন-ইলেভেন পরবর্তী উপস্থিতি ও এক দশকের অচলাবস্থা
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ওয়াশিংটন তাদের সামরিক ও গোয়েন্দা সাম্রাজ্য নজিরবিহীন মাত্রায় বিস্তৃত করেছিল। ইরাক ও আফগান যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে তথাকথিত ‘ওয়ার অন টেরর’ পরিচালনার জন্য অঞ্চলজুড়ে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি এবং গোপন নজরদারি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়।

নাইন-ইলেভেনের ঠিক দুই বছর পর, ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের সময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার সংখ্যা পৌঁছেছিল প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজারে। উন্মুক্ত সামরিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে মার্কিন সেনাবহরের আকার কখনো এক লাখের নিচে নামেনি।

পরবর্তীতে ২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তান থেকে সেনা কমানোর আনুষ্ঠানিক রূপরেখা দেন এবং ইরাক থেকে যুদ্ধরত মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই দৃশ্যপটে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএসের অপ্রত্যাশিত ও নাটকীয় উত্থান ঘটলে ওয়াশিংটন ফের তাদের সেনা সেখানে পাঠাতে বাধ্য হয়। এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার সংখ্যা মূলত ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজারের মধ্যে চক্রাকারে ওঠানামা করেছে। একই সময়ে মার্কিন প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অব্যাহত রকেট ও গেরিলা আক্রমণ।

যদিও সামরিক পরিকল্পনাবিদেরা এখন মধ্যপ্রাচ্যে উপস্থিতি ছোট করার বিভিন্ন বিকল্প খসড়া চূড়ান্ত করছেন, তবে সংকট সমাধানে ইরানের সঙ্গে কোনো ফলপ্রসূ শান্তিচুক্তির ধারেকাছেও ওয়াশিংটন পৌঁছাতে পারেনি। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তেহরান তাদের আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভেতরে অবস্থিত সুরক্ষিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরান প্রচণ্ড ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে নিজের সামরিক সক্ষমতার কড়া বার্তা দিয়েছে।

ধ্বংসস্তূপ মেরামত নিয়ে সংশয় ও খরচের পাহাড়
সাম্প্রতিক সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। একজন বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তা ও সাবেক এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত সিআইএর অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি ঘাঁটি ইরানের বিধ্বংসী হামলায় প্রায় মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

এ ছাড়া বাহরাইন, কাতার, কুয়েত এবং সৌদি আরবের একাধিক যৌথ সামরিক স্থাপনা ও রাডার সাইট ইরানি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে বিপর্যস্ত হয়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত এসব জটিল সামরিক স্থাপনা পুনরায় নির্মাণ না করার পথেই ঝুঁকছে পেন্টাগনের একাংশ। এর অন্যতম মূল কারণ হলো মাত্রাতিরিক্ত আর্থিক বোঝা।

গত এপ্রিল মাসে পেন্টাগনের প্রভাবশালী নীতিনির্ধারক তৃতীয় জুলস জে হার্স্ট অকপটে বলেছিলেন, যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো মেরামতে কত বিলিয়ন ডলার খরচ হবে, তার কোনো স্পষ্ট হিসাব এখনো পেন্টাগনের হাতে নেই। ভবিষ্যতের মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক অবস্থান বা ‘মিলিটারি ফুটপ্রিন্ট’ ঠিক কেমন হবে, তা পুরোপুরি মূল্যায়নের পরই কেবল এই ব্যয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করা সম্ভব। তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, পেন্টাগনের শীর্ষ কর্তারা উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে মার্কিন সেনাদের বোঝা কমাতে চান এবং এই অঞ্চলের আকাশ ও নৌসীমা প্রতিরক্ষার সিংহভাগ দায়িত্ব স্থানীয় আরব মিত্রদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল নিচ্ছেন।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ও নাটকীয় নীতি পরিবর্তনের অভ্যাসের কথা মাথায় রেখে সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতির জন্য একাধিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখছেন।

বেরিয়ে আসার ব্যর্থ চেষ্টা ও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
ইতিহাসবিদ ও সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, নাইন-ইলেভেনের আগপর্যন্ত সিআইএ নতুন কোনো বড় শত্রুর খোঁজে ছিল, কারণ তাদের প্রধান পরাশক্তি প্রতিপক্ষ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটেছিল। ওই সময় সংস্থায় সন্ত্রাসবাদ ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন ফিল্ড অফিসারের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিনের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ জেফরি রগের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নাইন-ইলেভেনের আগে মধ্যপ্রাচ্যে সিআইএর কার্যকর লোকবল সম্ভবত মাত্র কয়েক শ জনে সীমাবদ্ধ ছিল।

তবে নাইন-ইলেভেনের পর পুরো দৃশ্যপট রাতারাতি পাল্টে যায়। সিআইএ ব্যাপক পরিসরে লোকবল নিয়োগ শুরু করে এবং সামরিক বাহিনীর সমান্তরালে বিপুল অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আধা সামরিক কর্মকর্তার এক বিশাল দল গড়ে তোলে।

কিন্তু গত দুই দশকে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের প্রেসিডেন্টরাই একপর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই ব্যয়বহুল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে স্থায়ীভাবে নিষ্কৃতি পেতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছেন। বারাক ওবামা ওয়াশিংটনের নজর প্রশান্ত মহাসাগর ও এশিয়ার দিকে ঘোরাতে ‘পিভট টু এশিয়া’ নীতি গ্রহণ করেছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁর প্রথম মেয়াদের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে চীনকে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় অস্তিত্বের সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।

কিন্তু একের পর এক ভূরাজনৈতিক সংকট, আইএসের তাণ্ডব এবং ২০২০ সালে ট্রাম্পের নিজের নির্দেশেই ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রকে বারবার এই সংঘাতময় অঞ্চলে টেনে এনেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীর শীর্ষ জেনারেলরা ইতিমধ্যে ট্রাম্পকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে সংঘাত আরও বাড়িয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে ওয়াশিংটনের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। এই বাস্তবতায় ট্রাম্প প্রশাসন এখন সামরিক অভিযানের বদলে ইরানের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পুরনো কৌশলে ফিরতে চাইছে, যাতে দেশটির অর্থনীতি ভেতর থেকে ধসে পড়ে।

তবে এই চাপ কার্যকর হতে কত বছর লাগবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশ্লেষকদের স্পষ্ট মূল্যায়ন হলো, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলায় অভ্যস্ত এবং নিকট ভবিষ্যতে তারা ওয়াশিংটনের কাছে নতি স্বীকার করবে—এমন ভাবার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

সিএনএনকে পেন্টাগনের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন হয়তো উপসাগরীয় অঞ্চলের গুটিকয়েক বড় ও স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি টিকিয়ে রাখবে। তবে ইরান যাদের গুঁড়িয়ে দিয়েছে, সেগুলো নতুন করে গড়ে তোলা হবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট উপসাগরীয় দেশগুলো এই ব্যয়ের ভার বহন করতে কতটা রাজি তার ওপর। এসব ঘাঁটি নির্মাণে খরচ হতে পারে কয়েক বিলিয়ন ডলার। ইতিহাসের এক নির্মম বাস্তবতা হলো, মধ্যপ্রাচ্যের নিকটবর্তী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো আগামী দিনগুলোতেও যে ইরানের ক্রমাগত হামলার মুখে চরম ঝুঁকিতে থাকবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির গভীরতা স্পষ্ট করে মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি জানিয়েছেন—বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঐতিহ্যবাহী হেডকোয়ার্টারে মার্কিন সেনাদের ‘শিগগিরই’ আর নিরাপদে ফেরার কোনো সুযোগ নেই।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।