সালমান খানের ভেঙে যাওয়া স্বাস্থ্য কি তবে কোনো বড় সংকটের সংকেত? রহস্যময় জবাবে তোলপাড়!

বলিউড পাড়া থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—সবখানেই এখন একটিই প্রশ্ন: কেমন আছেন সালমান খান? ৬০ বছর বয়সী এই মেগাস্টারের সাম্প্রতিক শারীরিক অবয়ব দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তাঁর অগণিত ভক্ত ও অনুসারী। গত কয়েক দিন ধরে তাঁর ‘রুগ্ন’ চেহারা নিয়ে যে জল্পনা ডালপালা মেলেছে, তার বিপরীতে এবার নিজেই হাজির হয়েছেন এক রহস্যময় বার্তা নিয়ে। তবে নিজের অসুস্থতা নিয়ে কোনো সরাসরি ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো ভক্তদের কুশল জানতে চেয়ে তিনি নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি মুম্বাইয়ে আয়োজিত একটি পাবলিক ইভেন্ট থেকে। সেখানে ‘স্লাম রিহ্যাবিলিটেশন অথরিটি’ (এসআরএ) এর একটি অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালমান খান। সেই অনুষ্ঠানের ভিডিও ও স্থিরচিত্রগুলো ‘স্মার্টফোন’ ব্যবহারকারীদের নিউজ ফিডে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। ভিডিওতে দেখা যায়, আগের তুলনায় সালমানের শরীর অনেকটা ভেঙে পড়েছে এবং তাঁকে বেশ দুর্বল ও রোগা দেখাচ্ছে। এর আগে আমির খানের প্রযোজনা সংস্থার ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানেও তাঁর চেহারায় ক্লান্তির ছাপ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এরপর থেকেই ইন্টারনেটে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ভাইজান হয়তো কোনো মরণব্যাধি বা জটিল রোগে আক্রান্ত এবং তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাবও নাকচ করে দিয়েছেন।

গুঞ্জনের এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই গত রোববার নিজের ভেরিফাইড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে কয়েকটি সাদা-কালো ছবি পোস্ট করেন সালমান। সেখানে তাঁকে বেশ চনমনে এবং ঘামঝরা জিম সেশনের পর পেশিবহুল শরীরে দেখা যায়। তবে ছবির চেয়েও বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তাঁর দেওয়া ক্যাপশনটি। অভিনেতা লিখেছেন, ‘আপ লোগো কি তাবিয়ত ক্যায়সি হ্যায়?’ অর্থাৎ, ‘আপনাদের শরীর-স্বাস্থ্য কেমন আছে?’।

সালমানের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থবহ বার্তাকে তাঁর চিরাচরিত রসিকতাপূর্ণ কায়দায় ভক্তদের আশ্বস্ত করার একটি সুপরিকল্পিত ‘প্যাকেজ’ বা কৌশল হিসেবে দেখছেন বিনোদন বিশ্লেষকরা। সরাসরি নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কোনো বিবৃতি বা সাফাই না দিয়ে উল্টো ভক্তদের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি কাজ ও ফিটনেস নিয়ে বহাল তবিয়তে আছেন। এই পোস্টটি মুহূর্তেই ‘ভাইরাস’-এর মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক লক্ষ ভক্ত তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করে মন্তব্য করেন। অনেকের মতে, বিশাল ‘বাজেট’-এর নতুন সিনেমাগুলোর কাজ সময়মতো শেষ করার চাপেই হয়তো তিনি শারীরিকভাবে কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।

উল্লেখ্য, অতীতে সালমান খান ‘ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া’ নামক একটি স্নায়বিক সমস্যার কথা স্বীকার করেছিলেন, যা তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হয়। তবে সাম্প্রতিক এই গুঞ্জন নিয়ে সালমানের পরিবার কিংবা তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ‘ক্লারিফিকেশন’ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে তাঁর হাতে থাকা বড় প্রজেক্টগুলোর ‘ডেডলাইন’ ঠিক রাখতে তিনি বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন বলেই জানা গেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।