‘শর্টকাটে সাফল্য আসে না’; দীর্ঘ শোবিজ ক্যারিয়ারের সেই গোপন রহস্য ফাঁস করলেন সাদিয়া ইসলাম মৌ

দেশের বিনোদন জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র ও বরেণ্য নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিজের জনপ্রিয়তা ও আভিজাত্য ধরে রেখেছেন। সাম্প্রতিক এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের দীর্ঘ পেশাদার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে জীবনের সফল হওয়ার মূলমন্ত্র ও দর্শন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, একজন ভালো শিল্পী হওয়ার আগে একজন সুশৃঙ্খল ও আদর্শ মানুষ হওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। ব্যক্তিগত জীবনের ‘ডিসিপ্লিন’ বা শৃঙ্খলা না থাকলে পেশাদার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।

একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে মৌ বলেন, “আমি সবসময় খুব সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করার চেষ্টা করেছি এবং জীবনের প্রতিটি ধাপে তার সুফলও পেয়েছি। এমনকি আমার সন্তানদেরও আমি ছোটবেলা থেকেই এই শৃঙ্খলার শিক্ষা দিয়ে বড় করেছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে অনেকেই দ্রুত উপরে ওঠার চেষ্টা করেন, কিন্তু ‘শর্টকাট’ পদ্ধতিতে কখনো টেকসই সাফল্য আসে না। তাঁর ভাষ্যমতে, প্রকৃত সাফল্য হলো সময়, মানসম্মত কাজ এবং সাধারণ দর্শকের অকৃত্রিম ভালোবাসার এক নিখুঁত সমন্বয়।

সফলতার পেছনে দীর্ঘমেয়াদী সাধনার গুরুত্ব তুলে ধরে মৌ বলেন, “আমি কখনোই নিজেকে সেরা দাবি করি না, আমি কেবল আমার কাজটা সততার সঙ্গে করে গেছি। যারা দীর্ঘদিন ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করছেন, তাঁদের সবার মধ্যেই আমি একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করেছি—আর তা হলো কঠোর শৃঙ্খলা।” উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রবীণ ও গুণী অভিনেতা আজিজুল হাকিমের কথা উল্লেখ করেন। মৌ জানান, আজিজুল হাকিমের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন কীভাবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং সুশৃঙ্খল আচরণের মাধ্যমে একজন বড় মাপের শিল্পী হয়ে ওঠা যায়।

বর্তমান সময়ের বিনোদন জগতের পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপট নিয়েও নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি মনে করেন, বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে এবং চ্যানেলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিল্পীদের সামনে সুযোগ যেমন বেড়েছে, ঠিক তেমনি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রতিযোগিতাও। তবে চ্যালেঞ্জ যত বড়ই হোক না কেন, যারা সত্যিই ভালো কাজ করবেন এবং শৃঙ্খলার সঙ্গে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখবেন, শত চ্যানেলের ভিড়েও তাঁরা সহজেই দর্শকদের নজরে আসবেন। স্মার্টফোন ও ডিজিটাল মিডিয়ার এই যুগে সস্তা প্রচারের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী কাজের মানের দিকেই নতুনদের বেশি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।