‘দ্য ওডিসি’র বিশ্বজয়ের মাঝেই নোলানের বড় ঘোষণা: কেন তিন বছরের জন্য ক্যামেরার আড়ালে যাচ্ছেন এই জাদুকর?

চলচ্চিত্র মানেই যাঁর কাছে এক একটি জাদুকরী ও মনস্তাত্ত্বিক অভিজ্ঞতা, সেই অস্কারজয়ী ‘মাস্টারমাইন্ড’ ক্রিস্টোফার নোলান এবার এক বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর সর্বশেষ মাস্টারপিস ‘দ্য ওডিসি’-র বিশ্বব্যাপী আকাশছোঁয়া সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই তিনি দীর্ঘ তিন বছরের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। হলিউডের এই প্রভাবশালী নির্মাতার এমন আকস্মিক ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তাঁর অগণিত ভক্তের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও, নোলান নিজে এর পেছনে এক অকাট্য ও গভীর যুক্তি তুলে ধরেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘টুডে’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নোলান জানিয়েছেন, প্রাচীন গ্রিক মহাকবি হোমারের অমর সৃষ্টি ‘দ্য ওডিসি’কে রূপালি পর্দায় রূপান্তর করা ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর এক ‘প্যাকেজ’ বা কর্মযজ্ঞ। এই প্রজেক্টের প্রতিটি ‘ডেডলাইন’ সামলাতে গিয়ে তিনি এবং তাঁর পুরো নির্মাণ দল শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম অবসাদের সম্মুখীন হয়েছেন। নোলানের ভাষায়, “এটি কেবল একটি সাধারণ ছবি নির্মাণ ছিল না, বরং হোমারের সেই কালজয়ী আখ্যানকে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলা ছিল এক পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। বড় কোনো সৃজনশীল ঝুঁকি বা আত্মত্যাগ ছাড়া এমন মহাকাব্যিক গল্প বড় পর্দায় যথাযথভাবে উপস্থাপন করা প্রায় অসম্ভব।”

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও নোলান এই সিনেমায় এক নজিরবিহীন বিপ্লব ঘটিয়েছেন, যা সিনেমা হলগুলোতে দর্শকদের এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা দিয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ‘দ্য ওডিসি’ পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র যা শতভাগ ‘লার্জ-ফরম্যাট’ বা বড় আকারের বিশেষ ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করা হয়েছে। নোলান মনে করেন, বর্তমান হলিউড স্টুডিওগুলো বড় অংকের ‘বাজেট’ খরচ করলেও মৌলিক কোনো আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে বা সাহস দেখাতে অনীহা প্রকাশ করছে। তিনি ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আজকের যুগের দর্শকরা কেবল গতানুগতিক ড্রামা নয়, বরং মৌলিক ও উচ্চাভিলাষী গল্পের জন্য মুখিয়ে থাকেন, যা কেবল ‘স্মার্টফোন’-এর স্ক্রিনে নয় বরং বড় পর্দাতেই মানায়।

উল্লেখ্য, ‘দ্য ওডিসি’-র কেন্দ্রীয় চরিত্র অর্থাৎ ট্রয় যুদ্ধ শেষে বীর যোদ্ধা ওডিসিয়াসের বিপদসংকুল স্বদেশে ফেরার রুদ্ধশ্বাস কাহিনীতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন। এই মেগা প্রোজেক্টে তাঁর সঙ্গে আরও স্ক্রিন শেয়ার করেছেন একঝাঁক হলিউড মহাতারকা—যাঁদের মধ্যে রয়েছেন টম হল্যান্ড, জেনডায়া, অ্যান হ্যাথাওয়ে, লুপিতা নিয়োঙ্গো, রবার্ট প্যাটিনসন এবং শার্লিজ থেরন। অগণিত দর্শক এখন তাঁদের প্রিয় এই নির্মাতার প্রত্যাবর্তনের প্রহর গুনবেন, যদিও আগামী তিন বছরের জন্য নোলানের নতুন কোনো সৃষ্টি রূপালি পর্দায় দেখার সুযোগ আর থাকছে না।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।