পচা তেল আর নোংরা পরিবেশে রান্না! মাদারীপুরে আলোচিত রেস্টুরেন্টে হানা দিয়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা

মাদারীপুর জেলা শহরের খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এক বিশেষ অভিযানে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন। শহরের জনপ্রিয় ফুড জয়েন্ট হিসেবে পরিচিত পুরাণবাজার এলাকার ‘আরএফসি রেস্টুরেন্ট’-এর খাবার খেয়ে গত কয়েক দিনে অন্তত ৪০ জন ক্রেতা আশঙ্কাজনকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এই নজিরবিহীন ঘটনার প্রেক্ষিতে গত রোববার সন্ধ্যায় ওই রেস্টুরেন্টে একটি বিশেষ মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা ও নোংরা পরিবেশের প্রমাণ পাওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল মঈন শিকদার রেস্টুরেন্ট মালিক মো. রেজাউলের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার বিকেলে। ওই দিন আরএফসি রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার পর বেশ কয়েকজন ক্রেতা পেটে ব্যথা ও বমির সমস্যায় আক্রান্ত হন। পরবর্তীতে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে মাদারীপুর পৌর শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভুক্তভোগীরা ডায়রিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করতে শুরু করেন। গতকাল রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাদারীপুর সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে অন্তত ৪০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে দুইজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অসুস্থ রোগীদের প্রত্যেকেরই অভিন্ন অভিযোগ—রেস্টুরেন্টটির সরবরাহ করা নিচুমানের ও বাসি খাবার খেয়েই তাঁরা এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। তাঁরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল মঈন শিকদার গণমাধ্যমকে জানান, “রেস্টুরেন্টটির রান্নাঘরে গিয়ে দেখা গেছে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এমনকি পোড়া ও অত্যন্ত নিচুমানের তেল ব্যবহার করে খাবার তৈরি করা হচ্ছিল, যা মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর। অনিয়মের গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছি এবং কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছি যে, ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটলে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে সিলগালা করে দেওয়া হবে।”

উক্ত অভিযানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব এবং জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদারীপুরের প্রতিটি হোটেল ও রেস্টুরেন্টে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে গ্রীষ্মের এই সময়ে বাইরের খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে নগরবাসীকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।