আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ কঠোর ও বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এখন থেকে আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো পদের জন্য লড়াই করতে পারবেন না। এছাড়া ঋণখেলাপি, ঋণের জামিনদার এবং সেবা খাতের বিল (ইউটিলিটি বিল) বকেয়া রাখা ব্যক্তিদের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নির্বাচনী লড়াইয়ের দরজা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের ১২তম বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যসমূহ তুলে ধরেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের পাঁচটি স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান—ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদ—এর নির্বাচন সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে এই আইনগুলোতে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে কমিশন। ইসির সিনিয়র সচিব জানিয়েছেন, এই সংশোধনী প্রস্তাবগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা চূড়ান্ত রূপ পাবে। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি রাজনীতি বা নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্কের অবসান ঘটাতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রার্থিতার যোগ্যতার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা সংস্কারেও নতুন এক ‘মডেল’ নিয়ে কাজ করছে কমিশন। বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেজে রাখা হয়, যদিও তারা ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে ভোটাধিকার পান না। বর্তমান ব্যবস্থায় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া মাত্রই একজন নাগরিকের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়ে যায় এবং এর আগ পর্যন্ত তথ্যগুলো ‘ডরম্যান্ট’ বা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় সংরক্ষিত থাকে।
তবে নির্বাচন কমিশন এখন নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের এই বয়সসীমা আরও কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। এনআইডি সেবাকে আরও জনবান্ধব ও ‘স্মার্ট’ করতে প্রাথমিক স্তর, অষ্টম শ্রেণি কিংবা এসএসসি পর্যায়—ঠিক কোন সময় থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত হবে, তা নিয়ে একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণমূলক ‘প্যাকেজ’ তৈরি করছে কমিশন। এই প্রক্রিয়া সফল হলে ভবিষ্যতে নাগরিকরা শৈশব থেকেই একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্রীয় ডেটাবেজের আওতায় চলে আসবে। নির্বাচনের মাঠে কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব কমাতে এবং যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ করে দিতেই এই নতুন ‘প্রটোকল’ বা নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করতে চায় ইসি।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।