২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে স্পেনের কাছে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ ট্রফি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। মাঠের লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্ব হাতছাড়া হলেও, আর্জেন্টিনার লড়াকু ফুটবল এবং বিশ্ব ফুটবলে তাদের অসামান্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার (FIFA) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ইনস্টাগ্রাম’-এ দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি লিওনেল মেসি ও পুরো আর্জেন্টিনা দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সভাপতির এই বার্তা আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের মনে নতুন করে আশার আলো জুগিয়েছে।
ইনফান্তিনো তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, এবারের আসরটি আর্জেন্টিনার জন্য ছিল আক্ষরিক অর্থেই ‘অসাধারণ’। তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন দলটির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা এবং প্রতিটি ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতার ওপর। ইনফান্তিনোর মতে, আর্জেন্টিনার এমন লড়াকু রূপ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “২০২২ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আবারও ২০২৬-এর ফাইনালে পৌঁছানো কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এটি দলটির ধারাবাহিক উৎকর্ষ ও শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য প্রমাণ।”
মেগা ফাইনালের পর যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচকদের বিদ্রূপ ও নানা বিতর্ক ‘ভাইরাস’-এর মতো ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন ফিফা সভাপতির এই বার্তা আর্জেন্টিনা শিবিরের জন্য বড় ধরণের এক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও রদ্রিগো ডি পল সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়েছিলেন। তাঁরা দাবি করেছিলেন যে, ষড়যন্ত্র বা ভাগ্য নয়, বরং মাঠের যোগ্যতায় তাঁরা এই চূড়ায় পৌঁছেছেন। ইনফান্তিনোর এই আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন যেন সেই লড়াকু ফুটবলারদের দাবিরই এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বা ‘প্রটোকল’ হিসেবে আবির্ভূত হলো।
ফিফা সভাপতি তাঁর বক্তব্যে কোনো নেতিবাচক বা বিতর্কের প্রসঙ্গ না টেনে বরং ফুটবলের নান্দনিকতাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের প্রতি, যাঁরা পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে এক অবিশ্বাস্য ‘প্যাকেজ’ ফুটবল উপহার দিয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেভাবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে টানা দ্বিতীয় ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গেছেন, সেই কীর্তিকে ফুটবলীয় ইতিহাসের এক অমর ‘অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ফিফা বস। শিরোপা হাতছাড়া হলেও আর্জেন্টিনার এই অর্জন বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।