শচীনের পর এবার শুবমান গিল; যন্তর মন্তরের আন্দোলন নিয়ে কী বললেন ভারতীয় অধিনায়ক?

ভারতে বর্তমানে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক ‘যন্তর মন্তর’ ময়দান এখন লাখ লাখ শিক্ষার্থীর গগনবিদারী চিৎকারে প্রকম্পিত। বিশেষ করে ভারতীয় ‘জেনজি’ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে সাহসী সংগ্রাম শুরু করেছে, তা এখন কেবল রাজপথেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর উত্তাপ আছড়ে পড়েছে ক্রীড়াঙ্গন ও বিনোদন জগতেও। এই আন্দোলনের সমর্থনে এর আগে ক্রিকেটের বরপুত্র শচীন টেন্ডুলকার সরব হলেও, এবার সরাসরি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারতের বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক শুবমান গিল।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ভঙ্গ করা এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার এই হীন অপচেষ্টা রুখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন গিল। তিনি মনে করেন, যে কোনো সভ্য সমাজে শিক্ষার স্বচ্ছতা থাকা অপরিহার্য এবং দুর্নীতির কারণে কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে দেওয়া যায় না। গিলের এই সাহসী অবস্থান ভারতের সচেতন ছাত্রসমাজের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

নিজের ‘স্মার্টফোন’ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক ‘স্টোরি’তে শুবমান গিল অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় লিখেছেন, ‘একজন ভারতীয় তরুণ হিসেবে আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি যে, আমাদের প্রজন্মের প্রতিটি মানুষের সঠিক উপায়ে শেখার, স্বপ্ন দেখার এবং নিজেদের কল্পনা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ গড়ার সমান সুযোগ থাকা উচিত।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, ক্ষমতার দাপটে বা দুর্নীতির মাধ্যমে তরুণদের এই মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে গিল বলেন, ‘শিক্ষাই হলো আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার মূল চালিকাশক্তি। আশা করছি, আমরা সবাই সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে এগিয়ে যাব। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করাই হওয়া উচিত আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভারতের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটাই এখন সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন।’

উল্লেখ্য, দিল্লির এই ঐতিহাসিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তাঁদের মূল দাবি হলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পুরো পরীক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কার। ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কের এই প্রকাশ্য সমর্থন আন্দোলনের এক নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শচীনের পর গিলের মতো মহাতারকারা যখন রাজপথের লড়াইয়ের প্রতি সংহতি জানান, তখন তা দেশের নীতিনির্ধারক ও ‘ক্যাবিনেট’ সদস্যদের ওপর এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে। ছাত্রসমাজ এখন গিলের এই বার্তাকে ইনসাফ পাওয়ার লড়াইয়ে এক বিশাল বড় প্রাপ্তি হিসেবেই দেখছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।