মোহামেডানের পর এবার ম্যাচ পেছানোর দাবিতে আবাহনী: ঘরোয়া ফুটবলের সূচি নিয়ে নতুন নাটক!

মাঠের রোমাঞ্চ ছাপিয়ে দেশের ঘরোয়া ফুটবলের উত্তাপ এখন পুরোপুরি ভর করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সূচির টেবিলে। একটি ক্লাবের ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের দেখানো পথেই হাঁটল তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। জাতীয় দলের ব্যস্ততা এবং খেলোয়াড় সংকটের অজুহাত তুলে নিজেদের নির্ধারিত ম্যাচগুলো পিছিয়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে ধানমন্ডির ক্লাবটি। এর ফলে নতুন মৌসুমের শুরুতেই ঘরোয়া ফুটবলের ক্যালেন্ডার ও পেশাদারিত্ব নিয়ে নতুন করে গভীর বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর মাঠে গড়িয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের নতুন মৌসুম, আর আজ পর্দা ওঠার কথা ঐতিহ্যবাহী ফেডারেশন কাপের। তবে বল মাঠে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় দলের ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে টুর্নামেন্টের পূর্বনির্ধারিত সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। জাতীয় দলে নিজেদের ৯ জন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার ডাক পাওয়ায় আগামী ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বরের দুটি ম্যাচ স্থগিত করার জন্য লিগ কমিটির কাছে জরুরি আবেদন জানিয়েছিল সাদা-কালো শিবির। মোহামেডানের সেই আবেদনে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়ে লিগ কমিটি তাদের ম্যাচগুলো পিছিয়ে দেয়। নতুন সূচি অনুযায়ী, আগামী ২ অক্টোবর ফকিরেরপুলের বিপক্ষে লিগ এবং ৬ অক্টোবর আরামবাগের বিপক্ষে ফেডারেশন কাপের ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় তারা।

মোহামেডানের এই সুযোগ পাওয়ার পরপরই সোমবার বাফুফের সাধারণ সম্পাদকের দপ্তরে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের ম্যাচ পেছানোর দাবি তুলেছে আবাহনীও। চিঠিতে তারা আজ ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ফেডারেশন কাপের ম্যাচ এবং আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ম্যাচ স্থগিত করার জোর আবেদন জানিয়েছে। ম্যাচ পেছানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আবাহনী জানিয়েছে, জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাক পাওয়া তাদের ৪ জন ফুটবলারের মধ্যে ইতোমধ্যে দুজন অনুশীলনের সময় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্প ও চোটের কারণে এই চার ফুটবলারের কাউকেই আসন্ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলানো তাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

বাফুফেকে দেওয়া চিঠিতে আবাহনী আরও স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছে, নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তারা ফেডারেশনের আগের সূচিতে সম্মতি জানিয়ে চারজন দেশি এবং চারজন বিদেশি ফুটবলার নিয়ে পূর্ণাঙ্গ দল প্রস্তুত করেছিল। কিন্তু পেশাদার লিগে যদি কোনো একক ক্লাবের বিশেষ আবেদনে সহজেই সূচি পরিবর্তন করা সম্ভব হয়, তবে আবাহনীর এই মাঠের বাস্তব সংকট ও সীমাবদ্ধতাকেও বাফুফের নীতিগতভাবে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

এর আগে ঘরোয়া ফুটবলের এমন খামখেয়ালি সূচি পরিবর্তনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল আরেক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়ন। তারা নীতিগত প্রশ্ন তুলে জানায়, একই পরিস্থিতিতে সব ক্লাবের ক্ষেত্রে কি সমান মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে? উল্লেখ্য, চলতি মৌসুম আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে গড়ানোর আগেই মোহামেডান, আবাহনী ও ব্রাদার্সসহ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ ১০টি ক্লাব যৌথভাবে বাফুফের অদূরদর্শী সূচির বিরুদ্ধে জোরালো আপত্তি জানিয়েছিল। মূলত জাতীয় দলের ক্যাম্পের জন্য দীর্ঘ বিরতি, আন্তর্জাতিক সূচির প্রভাব, ফুটবলারদের ফিটনেস ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদি দল পরিচালনায় বাড়তি আর্থিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ক্লাবগুলো আগে থেকেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।