ব্রিটিশ ফুটবলের দলবদলের বাজারে নতুন এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব চেলসি। ইংল্যান্ডের উদীয়মান ফরোয়ার্ড মরগান রজার্সকে দলে ভেড়াতে তারা যে পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে, তা ব্রিটিশ খেলোয়াড়দের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ২৩ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে অ্যাস্টন ভিলা থেকে উড়িয়ে আনতে ব্লুজদের খরচ করতে হয়েছে প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকারও বেশি। এই বিশাল অংকের ‘ট্রান্সফার ফি’ প্রদানের মাধ্যমে রজার্স এখন ব্রিটেনের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম খোদাই করে নিলেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চেলসি রজার্সের সাথে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে যোগ দেওয়ার পর নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এই তরুণ ফরোয়ার্ড ক্লাবের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে জানান, লন্ডনের সবচেয়ে বড় ক্লাবে আসার স্বপ্ন তাঁর বহুদিনের। তিনি বলেন, “আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। চেলসির নতুন কোচ, বর্তমান ‘স্কোয়াড’ এবং ক্লাবটি যেভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে, তা আমাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে।” চেলসির এই আক্রমণাত্মক ‘বাজেট’ ও বিনিয়োগ মূলত প্রিমিয়ার লিগে পুনরায় আধিপত্য বিস্তারের এক স্পষ্ট সংকেত।
মরগান রজার্সের এই দামি দলবদল ব্রিটিশ মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনের রেকর্ডকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। অ্যান্ডারসন চলতি মাসেই ১১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে নটিংহাম ফরেস্ট থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফির রেকর্ডটি এখনও সুইডিশ স্ট্রাইকার আলেক্সান্দার ইসাকের দখলে রয়েছে, যাঁকে গত বছর ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে দলে নিয়েছিল লিভারপুল।
পরিসংখ্যানের পাতায় রজার্সের উত্থান রূপকথার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাত্র ৮০ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে মিডলসবরা থেকে অ্যাস্টন ভিলাতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তাঁর বাজারদর কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়া ফুটবল বোদ্ধাদেরও অবাক করেছে। ভিলার জার্সিতে ৮৫ ম্যাচে ২১টি গুরুত্বপূর্ণ গোল করার পাশাপাশি ক্লাবটিকে গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ চারে নিয়ে যাওয়া এবং ইউরোপা লিগের শিরোপা জয়ে তিনি অসামান্য অবদান রাখেন। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে এ পর্যন্ত ২২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন রজার্স এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অংশ নেওয়া ‘থ্রি লায়ন্স’ দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। তাঁর এই অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে চেলসি তাঁদের আক্রমণভাগকে আরও ধারালো করল বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।