বিশ্বকাপের সেই হারের প্রতিশোধ কি নিতে পারবেন মেসিরা? কাতারে আবারও মহাযুদ্ধের হাতছানি!

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফুটবল বিশ্বের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট নির্ধারিত হয়ে গেলেও স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার আরেকটি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে নতুন এক জল্পনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পুনর্সূচিত ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচ আয়োজনের গুঞ্জন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ছড়িয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে স্প্যানিশদের কাছে পরাজিত হওয়ার পর আলবিসেলেস্তেরা কি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে—এখন এটাই ফুটবল বিশ্বের প্রধান আলোচনার বিষয়।

ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা) এবং দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন (কনমেবল)-এর দুই সেরা দলের এই ঐতিহাসিক লড়াই বেশ কিছু দিন ধরেই চরম অনিশ্চয়তার মুখে ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, ইউরোপের মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন উয়েফা ইউরো জয়ী এবং দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটধারী কোপা আমেরিকা জয়ী দলের মধ্যে এই একক ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়, যা ‘ফিনালিসিমা’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ১৯৭০ ও ৮০-র দশকের বিভিন্ন সংস্করণের পর ২০২২ সালে নতুন উদ্যমে ফিরে আসা এই টুর্নামেন্টে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইতালিকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল।

মূলত এবারের বিশ্বকাপের ডামাডোল শুরুর আগেই স্পেন ও আর্জেন্টিনার এই মেগা ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। চলতি বছরের মার্চ মাসে কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতিবিজড়িত সেই আইকনিক লুসাইল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপের কারণে খেলোয়াড়দের ভ্রমণ ও আয়োজনের কারিগরি জটিলতা এড়াতে উদ্যোক্তারা পূর্ব নির্ধারিত সেই সূচি বাতিল করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যু কিংবা স্পেন ও আর্জেন্টিনায় দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ ম্যাচ আয়োজনের মতো বিকল্প প্রস্তাব রাখা হলেও কোনো পক্ষই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

তবে ইএসপিএন আর্জেন্টিনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মার্টিন আরেভালো-র সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুটবলপ্রেমীদের সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে এই বছরের শেষেই। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামেই আয়োজিত হতে পারে এই দুই মহাদেশীয় পরাশক্তির মহারণ। ইতোমধ্যে কাতার সরকার এই রাজকীয় ম্যাচটি আয়োজনের স্বত্ব অর্জন করেছে বলেও একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। যদিও উয়েফা এবং কনমেবল-এর ‘ক্যাবিনেট’ বা নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ‘ডেট’ বা ঘোষণা আসেনি, তবে এই সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের ‘স্মার্টফোন’-এর স্ক্রিনে উত্তেজনার ঢেউ খেলা করছে।

উল্লেখ্য, ফিনালিসিমা স্থগিত হওয়ার ফলে ভাগ্যচক্রে বিশ্বকাপেরই সবচেয়ে বড় মঞ্চে এই দুই পরাশক্তিকে মুখোমুখি দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন বিশ্ববাসী। সেই ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো টানটান উত্তেজনার ওই ম্যাচের ১০৬ মিনিটে স্পেনের হয়ে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন ফেরান তোরেস। তার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় ১০ জনের দলে পরিণত হয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

নভেম্বর মাসে প্রস্তাবিত এই ফিনালিসিমা ম্যাচের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার সামনে যেমন থাকবে হারের জ্বালা মিটিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ, তেমনি স্পেনের সামনে থাকবে বিশ্বসেরা হিসেবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বকে আরও সুসংহত করার নতুন চ্যালেঞ্জ। ফুটবল বিশ্ব এখন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ‘ডেডলাইন’ বা দিনক্ষণ ঘোষণার অপেক্ষায় দিন গুনছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।