সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী রোমাঞ্চ আর উত্তাপ এখনো স্তিমিত হয়নি, ঠিক তার মাঝেই ফুটবল দুনিয়ায় এক নতুন বিতর্কের ঝড় তুলেছেন পর্তুগিজ ফুটবল আইকন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি এবং তাঁর দল আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পৌঁছে দিতে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা ‘বিশেষ সুবিধা’ বা ‘পক্ষপাতমূলক আচরণ’ করেছে—এমন একটি চাঞ্চল্যকর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে লাইক দিয়েছেন সিআরসেভেন। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে ‘স্মার্টফোন’ ব্যবহারকারীদের নিউজ ফিডে সেই লাইকের স্ক্রিনশটগুলো এখন ‘ভাইরাস’-এর মতো ছড়িয়ে পড়ছে, যা জন্ম দিয়েছে শত সহস্র জল্পনার।
বিতর্কের এই মূল সূত্রপাত ঘটে স্প্যানিশ টেলিভিশন শো ‘এসপেহো পাবলিকো’-এর একটি বিশেষ ভিডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার সেই মেগা ফাইনাল ম্যাচের আগে প্রচারিত ওই ভিডিওতে একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন যে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এমন একটি দল যাদের অন্তত পাঁচটি ম্যাচ আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ফিফার সরাসরি হস্তক্ষেপে তারা ফাইনালে উঠতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি ওই সাংবাদিক বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে এই পৃথিবীর অন্যতম ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ প্রতিষ্ঠান হিসেবেও অভিহিত করেন।
রোনালদোর ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি এই সমালোচনামূলক ভিডিওতে লাইক দেওয়ায় স্তম্ভিত ফুটবল বিশ্লেষকরা। যদিও রোনালদো বা তাঁর পেশাদার মিডিয়া টিমের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘ক্লারিফিকেশন’ বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে সাধারণ ভক্তদের মাঝে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ নতুন মাত্রা পেয়েছে। অনেকের মতেই, এটি কেবল একটি সাধারণ লাইক নয়, বরং ফিফার প্রতি রোনালদোর জমে থাকা একরাশ ক্ষোভের প্রকাশ।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখছেন অনেকে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, খোদ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিজেই এই বিশ্বকাপের ঠিক আগে ফিফার কাছ থেকে একটি বড় ধরণের ‘প্যাকেজ’ বা সুবিধা পেয়েছিলেন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়ার পর নিয়মানুযায়ী তাঁর তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার কথা থাকলেও, ফিফা তাঁর শাস্তির মেয়াদ কমিয়ে মাত্র এক ম্যাচের তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল এবং বাকি দুই ম্যাচ এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। ফলে ফিফাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলা পোস্টে রোনালদোর সায় দেওয়াটা এক ধরণের বৈপরীত্য তৈরি করেছে বলে মনে করছেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা। বর্তমান অস্থিতিশীল ফুটবলীয় পরিস্থিতিতে এই একটি লাইক আগামী দিনে ফিফার সাথে রোনালদোর সম্পর্কে কোনো চির ধরানোর ‘ডেডলাইন’ হয়ে দাঁড়ায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।