চোটের বৃত্তে বন্দি নেইমার: মাঠের কড়া সমালোচনা করে কী বললেন ব্রাজিলীয় তারকা?

ব্রাজিলীয় ফুটবল জাদুকর নেইমার জুনিয়রের ক্যারিয়ারে চোট যেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোটের সেই চিরচেনা বৃত্ত থেকে বের হতে না পেরে আবারও দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। পালমেইরাসের বিপক্ষে সান্তোসের হয়ে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে উরুর গুরুতর ইনজুরিতে পড়েছেন তিনি। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই চোট কাটিয়ে পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পেতে তাকে অন্তত চার থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে কাটাতে হতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার, কোপা দো ব্রাজিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। প্রথমার্ধেই ডান পায়ের উরুর মাংসপেশিতে তীব্র টান অনুভব করেন ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। ব্যথার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, বিরতির পর তিনি আর মাঠে নামার সাহস পাননি। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকা সান্তোস শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে, যার ফলে টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়।

ম্যাচ পরবর্তী মেডিকেল পরীক্ষায় দেখা গেছে, নেইমারের ডান পায়ের রেক্টাস ফেমোরিস পেশিতে ‘টাইপ টু-বি’ মাত্রার চোট ধরা পড়েছে। সান্তোস ক্লাব কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, এ ধরনের পেশির ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।

এদিকে, নিজের এই চোটের জন্য মাঠের শোচনীয় অবস্থাকেই দায়ী করেছেন নেইমার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে সান্তোসের হোম ভেন্যু ‘ভিলা বেলমিরো’র পিচ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। নেইমার অভিযোগ করেন, ম্যাচের মাত্র একদিন আগে পিচ আলগা করা হয়েছিল এবং মাঠজুড়ে অসংখ্য গর্ত ছিল। ক্ষুব্ধ এই তারকা লেখেন, “আমাদের শুধু প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই নয়, নিজেদের মাঠের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হয়েছে।” অমসৃণ মাঠে দৌড়ানো এবং হঠাৎ গতি পরিবর্তনের সময় খেলোয়াড়দের শরীরের ওপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর এটিই নেইমারের বড় কোনো চোট। বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে ব্রাজিলের বিদায় নেওয়ার ম্যাচে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন তিনি। জাতীয় দলের সেই দুঃখ কাটিয়ে ঘরোয়া ফুটবলে মনোযোগী হওয়ার আগেই আবারও মাঠের বাইরে চলে যেতে হলো এই ফুটবল মহাতারকাকে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।