২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বিষাদ কাটিয়ে আবারো ক্লাব ফুটবলের সবুজ গালিচায় ফিরলেন ব্রাজিলিয়ান মেগাস্টার নেইমার জুনিয়র। তবে প্রত্যাবর্তনের রাতটি ছিল নেইমার-সুলভ নাটকীয়তায় ভরপুর। গত ২০ দিন আগে নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি গোল করেও দলকে জেতাতে পারেননি তিনি। তবে গতকাল রাতে ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে সান্তোসের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স কেবল ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেই উজ্জ্বল ছিল না, বরং তা ছিল সমালোচকদের মুখে এক ধরণের ঝোড়ো জবাব। শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে নিশ্চিত হার থেকে রক্ষা করলেও, মাঠের ভেতরে মেজাজ হারিয়ে কার্ড বিতর্কেও জড়িয়েছেন এই তারকা।
ম্যাচের ৩৬তম মিনিটেই নেইমারের চিরচেনা ছন্দ লক্ষ্য করা যায়। এক সতীর্থের সাথে চমৎকার ওয়ান-টু-ওয়ান পাসে বল দেওয়া-নেওয়া করে নিখুঁত এক কোণাকুণি শটে বল জালে জড়ান তিনি। তবে গোলের চেয়েও বেশি আলোচিত হয়েছে তাঁর বিশেষ উদ্যাপন। সম্প্রতি ‘ব্রাজিলিয়ান পোকার চ্যাম্পিয়নশিপে’ নেইমারের অংশগ্রহণ নিয়ে নেটিজেন ও ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মাঝে সমালোচনার যে ‘ভাইরাস’ ছড়িয়েছিল, গোল করার পর তাস বাঁটার অঙ্গভঙ্গি করে তিনি তার এক ধরণের রূপক উত্তর দেন। এই প্রতীকী উদ্যাপন মুহূর্তেই ‘স্মার্টফোন’ ব্যবহারকারীদের নিউজ ফিডে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে সান্তোস কিছুটা ছন্নছাড়া ফুটবল খেলতে শুরু করে এবং ৬২ মিনিটের এক আত্মঘাতী গোলসহ তারা ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। ঠিক এই সময়েই নেইমারের আগ্রাসী রূপটি সামনে আসে। শাপেকোয়েন্সের এক খেলোয়াড় তাঁকে ফাউল করলে তিনি মেজাজ হারিয়ে তাঁকে পেছন থেকে ধাক্কা দেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে রেফারি এগিয়ে এলে নেইমার প্রতিপক্ষ দলের আরেক সতীর্থের সাথেও তর্কে জড়ান এবং তাঁকে পুনরায় ধাক্কা মারেন। ফলস্বরূপ, রেফারি তাঁকে হলুদ কার্ড দেখাতে বাধ্য হন। ইতিপূর্বেও কার্ড থাকায় নেইমার স্বয়ংক্রিয়াভাবে সান্তোসের পরবর্তী ম্যাচের ‘ডেডলাইন’ থেকে ছিটকে গেছেন এবং স্ট্যান্ডে বসে খেলা দেখতে হবে তাঁকে।
নাটকের শেষ অঙ্কটি মঞ্চস্থ হয় ম্যাচের ঠিক অন্তিম লগ্নে। ৯০তম মিনিটে কাবায়েরো বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্নায়ুচাপের এই চূড়ান্ত মুহূর্তে নেইমার কোনো ভুল করেননি, বল জালে জড়িয়ে ২-২ সমতা নিশ্চিত করেন। এই ড্রয়ের ফলে সান্তোস ২২ পয়েন্ট নিয়ে সিরি ‘এ’ টেবিলের ১৪তম স্থানে উঠে এলেও অবনমন অঞ্চলের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। অন্যদিকে, মাত্র ১০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তলানিতে থাকা শাপেকোয়েন্সের দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা আরও প্রকট হয়েছে। নেইমারের এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করল যে, মাঠের বিতর্ক কিংবা ব্যক্তিগত সমালোচনা—সবকিছুর সমাধান তিনি তাঁর পায়ের জাদুতেই দিতে পছন্দ করেন। তবে দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার বিষয়টি সান্তোসের ‘বাজেট’ ও পরিকল্পনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।