মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘প্রতিশোধের’ হুঙ্কার! অধিকৃত ভূখণ্ডে নতুন করে চরম উত্তেজনা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। গাজা উপত্যকায় চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের রেশ ধরে এবার পশ্চিম তীরের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে পৈশাচিক হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জোরালো অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার দিবাগত রাতে নাবলুস ও তুলকারেম এলাকায় অবস্থিত দুটি পবিত্র মসজিদে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই নজিরবিহীন সাম্প্রদায়িক উসকানি পুরো অঞ্চলকে এক নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

নাবলুস শহরের দক্ষিণে অবস্থিত কুসরা শহরের মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী শহরের দক্ষিণাংশে একটি নির্মাণাধীন মসজিদে প্রবেশ করে। তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মসজিদের প্রবেশপথে আগুন ধরিয়ে দেয়, যার ফলে পুরো কাঠামো এবং নির্মাণ সামগ্রী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলাকারীরা কেবল আগুন দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘প্রতিশোধ’ (Revenge) এবং ঘৃণা ছড়ানোর নানা উগ্রবাদী স্লোগান লিখে রেখে যায়। মেয়র আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের হামলা মূলত ফিলিস্তিনিদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটি নতুন ‘প্যাকেজ’ কৌশল।

অন্যদিকে, তুলকারেমের নিকটবর্তী কুর গ্রামেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সেখানেও একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি দেয়ালে চরম বর্ণবাদী স্লোগান লিখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে যে, তারা আগুনের খবর পেয়ে কুসরার উপকণ্ঠে সেনা পাঠিয়েছিল, তবে তাদের পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজনরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। যদিও তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে, তবে ফিলিস্তিনিদের মতে এটি কেবলই একটি প্রশাসনিক ‘প্রটোকল’ বা কালক্ষেপণ ছাড়া আর কিছুই নয়।

এই হামলার প্রেক্ষাপট আরও উদ্বেগজনক। গত শুক্রবার পশ্চিম তীরের তেল গ্রামে বসতি স্থাপনকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে চারজন ফিলিস্তিনি ও দুজন ইসরায়েলি নিহত হন। এর পরপরই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পুরো নাবলুস শহর জুড়ে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’-এর নামে ধরপাকড় শুরু করে, যা সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনকে অচল করে দিয়েছে। বর্তমানে নাবলুস শহরে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে; পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরের সহিংসতা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ৯ মাসে ইসরায়েলি বাহিনী ও উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। বিপরীতে, ফিলিস্তিনিদের পাল্টা প্রতিরোধ ও অভিযানে নিহত হয়েছেন ৪৮ জন ইসরায়েলি। বর্তমানে পূর্ব জেরুজালেম বাদে পশ্চিম তীরের প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির বিপরীতে আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ ঘোষিত বসতিগুলোতে ৫ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি বসবাস করছে। যুদ্ধের এই দীর্ঘ ‘ডেডলাইন’ শেষ পর্যন্ত কোন পরিণতির দিকে যায়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।