বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে আজ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম দিন পার করতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) তিনি মুখোমুখি হচ্ছেন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দুই নেতার—ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেন সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির সমাধান খুঁজতে পৃথক পৃথক অধিবেশনে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ওয়াশিংটনের এই কূটনৈতিক তৎপরতাকে ঘিরে পুরো বিশ্ব এখন এক ধরণের স্নায়ুচাপে ভুগছে।
হোয়াইট হাউসের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সিএনএন-কে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে আলোচনায় প্রধানত তিনটি বিষয় প্রাধান্য পাবে: ইরানের সাথে চলমান সংঘাত নিরসন, লেবানন সীমান্তে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে চলমান আলোচনার অগ্রগতি এবং ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম চুক্তি’ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ প্রসঙ্গে জানান, ইরানের পরমাণু ও সামরিক তৎপরতা রুখতে নেতানিয়াহুর সাথে তাঁর কিছু কৌশলগত মতপার্থক্য থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থের ক্ষেত্রে দুই দেশের অবস্থান বর্তমানে অভিন্ন। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে একটি বড় ‘প্যাকেজ’ নিয়ে কাজ করছে তাঁর প্রশাসন।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সাথে বৈঠকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার স্থবির হয়ে পড়া শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনরায় গতিশীল করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন ট্রাম্প। তবে এই বৈঠকের আগে গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে এক ধরণের উত্তেজনা বিরাজ করছে। জেলেনস্কি ইতিপূর্বে অভিযোগ করেছিলেন যে, রাশিয়া মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর সংবেদনশীল তথ্য ইরানের কাছে পাচার করছে। ট্রাম্প অবশ্য জেলেনস্কির এই অভিযোগটি এক প্রকার উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী বা ‘ক্যাবিনেট’ পর্যায় থেকে রাশিয়া এমন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন না। এই মন্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প মস্কোর সাথে সম্পর্কের এক ধরণের ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, এই দুই বিশ্বনেতা বর্তমানে প্রয়াত প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নিতে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। সেই শোকাবহ পরিবেশের ফাঁকেই ট্রাম্প প্রশাসন বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো এক বিশেষ ‘স্ট্র্যাটেজিক’ রূপরেখা চূড়ান্ত করতে চাইছে। একই দিনে দুই সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের নেতার সাথে বৈঠক ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির এক নতুন সংস্করণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখন তাঁদের ‘স্মার্টফোন’ আর নিউজ পোর্টালে চোখ রাখছেন এই দেখার জন্য যে, এই আলোচনার পর হোয়াইট হাউস থেকে কোনো নতুন ‘ডেডলাইন’ বা যুগান্তকারী চুক্তির ঘোষণা আসে কি না।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।