ইরানের চেয়েও কাতার বিপজ্জনক? ইসরায়েলি নেতার বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়!

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিলেন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। ইরান নয়, বরং কাতারকেই বর্তমানে ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় ও সুদূরপ্রসারী হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে পারলে কাতারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন এই কট্টরপন্থী নেতা।

গত শনিবার (১ আগস্ট) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-এর একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় বেনেট এসব চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তার মতে, ইরানের হুমকি অনেকটা প্রকাশ্য ও সরাসরি হলেও কাতারের কর্মপদ্ধতি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং বিপজ্জনক। বেনেট বলেন, "ইরান সরাসরি ঘোষণা দিয়ে আমাদের ধ্বংস করার কথা বলে। কিন্তু কাতার কাজ করে পর্দার আড়ালে থেকে। তারা কৌশলে ইসরায়েলের স্বার্থের ক্ষতি করতে চায়।"

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে যে ভয়াবহ হামলা পরিচালিত হয়েছিল, তাতে অংশ নেওয়া হামাসের বিশেষ বাহিনী ‘নুখবা’র নেপথ্য অর্থায়নকারী দেশ হলো কাতার। তিনি আরও দাবি করেন, কাতার কেবল সামরিক নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের মাধ্যমেও ইসরায়েলকে দুর্বল করছে। এই প্রসঙ্গে তিনি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’র ভূমিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাতারের বিপুল বিনিয়োগ ও প্রভাব নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও কাতারের প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বেনেট। তিনি ‘কাতারগেট’ কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। অভিযোগ রয়েছে, নেতানিয়াহুর বর্তমান ও সাবেক বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাতারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেছেন, যা নিয়ে বর্তমানে বিচারবিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে।

নাফতালি বেনেট তার বক্তব্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কাতার আমাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে প্রবেশ করে ক্রমাগত ‘বিষ’ ছড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে দেশটিকে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা না করায় তাদের পক্ষে লবিং বা কাজ করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ নয়। বেনেট মনে করেন, এই আইনি সীমাবদ্ধতাই ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ‘লুপহোল’ বা দুর্বলতা। ফলে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে কাতারকে আইনিভাবে শত্রুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের সমস্ত প্রভাব বলয় ছিন্ন করা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।