‘আগে পদত্যাগ, পরে আলোচনা’; মোদি সরকারকে চূড়ান্ত ‘ডেডলাইন’ দিল ককরোচ জনতা পার্টি

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে তৃতীয় দফার এক মহাগুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দিল্লির রাজপথ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে আন্দোলনরত সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত সুষ্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ব্যতীত অন্য কোনো ইস্যু নিয়ে আলোচনার টেবিল সচল রাখার আর কোনো মানে হয় না। মূলত ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে দেশজুড়ে চলা এই অস্থিরতা নিরসনে সিজেপি এখন এক অনমনীয় অবস্থানে রয়েছে, যা নরেন্দ্র মোদি সরকারকে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা তাঁর ভেরিফাইড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ এক বিস্ফোরক বার্তা দিয়েছেন। তিনি সেখানে উল্লেখ করেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি আমাদের কাছে এখন অলঙ্ঘনীয় একটি বিষয়। সরকার যদি এই মৌলিক শর্তে রাজি না হয়, তবে পরবর্তী আলোচনার প্রতিটি মিনিটই স্রেফ সময়ের অপচয় বলে গণ্য হবে।” সিজেপি তাদের দাবিনামায় প্রধানত তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে; প্রথমত শিক্ষামন্ত্রীর দ্রুত পদত্যাগ, দ্বিতীয়ত আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের আইনি বা পুলিশি ‘প্রসেস’ বা ব্যবস্থা না নেওয়া এবং তৃতীয়ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে যে সব মেধাবী শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে অন্তত ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।

এর আগে গত শুক্রবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সাথে সিজেপি প্রতিনিধিদের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এক রুদ্ধশ্বাস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই দ্বিতীয় দফার আলোচনায় সরকার পক্ষ আন্দোলনকারীদের আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নীতিগত বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হওয়ার সংকেত দিলেও, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। বৈঠক শেষে জেপি নাড্ডা জানিয়েছিলেন যে, বিষয়টি নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে বা ‘ক্যাবিনেট’-এ আলাপ-আলোচনা শেষে শনিবার বিকেলে তাঁরা পুনরায় আলোচনায় বসবেন।

তবে সরকারি গোপন সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দল বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর পাশেই শক্তভাবে দাঁড়াচ্ছেন এবং তাঁর পদত্যাগের সম্ভাবনা প্রায় ক্ষীণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতিপূর্বেই পরীক্ষা পরিচালনা সংস্থা ‘এনটিএ’ (NTA)-এর ৪৭ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে এবং শিক্ষা সচিবের পদেও বড় ধরণের রদবদল আনা হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন ও ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ আদালত গঠনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কার মতে, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর দায় চাপিয়ে শিক্ষামন্ত্রী তাঁর নৈতিক দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। ডিজিটাল এই যুগে যেখানে ‘স্মার্টফোন’ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে আন্দোলন মুহূর্তেই পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ছে, সেখানে শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না ভারতবাসী। আজকের বিকেলের এই বৈঠকটিই নির্ধারণ করবে দিল্লির এই ছাত্রবিক্ষোভ কোন পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।