প্রশ্ন ফাঁসের নামে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার চারজনের রোমহর্ষক জালিয়াতি

চলমান মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভুয়া আশ্বাস দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সিফাত আহমেদ, মোহাম্মদ সালমান, মেজবাউল আলম ও মোহাম্মদ মহিউজ্জামান। গ্রেপ্তার হওয়া এই চারজন দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজ খুলে প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এসএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত অনলাইন গুজব ও প্রতারণা রোধে সিটিটিসির সাইবার শাখা নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে আসছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল সিটিটিসির অনলাইন ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ বিভাগ নজরদারির সময় একটি সন্দেহভাজন ফেসবুক পেজ শনাক্ত করে। ওই পেজ থেকেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহের বিজ্ঞাপন দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রলুব্ধ করা হচ্ছিল। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার তাজপুরে প্রথম অভিযান চালিয়ে সিফাত আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে সিফাতের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ২৩ এপ্রিল বগুড়ার ধুনট এলাকা থেকে সালমানকে এবং একই দিনে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জের দাদনপুর মালিপাড়া এলাকা থেকে মেজবাউল আলমকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। চক্রের শেকড় সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে গত ২৪ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশের নওগাঁ ইউনিয়ন থেকে এই চক্রের অন্যতম সহযোগী মহিউজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, এই চক্রটি মূলত ইন্টারনেটে ভুয়া ও এডিট করা প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দিয়ে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। প্রকৃতপক্ষে তাদের কাছে কোনো আসল প্রশ্নপত্র ছিল না এবং পরীক্ষার মূল প্রশ্নের সঙ্গে তাদের দেওয়া তথ্যের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এই চক্রের প্রতারণার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিক বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত চারজনকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস বা এ সংক্রান্ত গুজব ছড়িয়ে যারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডিএমপি।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া