আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যের বাজারের বোঝা লাঘব করতে এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আমিষের চাহিদা মেটাতে সাশ্রয়ী মূল্যে গরুর মাংস, দুধ ও ডিম বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমজান মাসজুড়ে প্রতি কেজি গরুর মাংস মাত্র ৬৫০ টাকায় কিনতে পারবেন সাধারণ ক্রেতারা। এ ছাড়া প্রতিটি ডিমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ টাকা এবং প্রতি লিটার পাস্তুরিত তরল দুধ পাওয়া যাবে মাত্র ৮০ টাকায়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে মাসব্যাপী এই বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গত রোববার রাজধানী ঢাকার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। আজ মঙ্গলবার এক দাপ্তরিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনস্বার্থে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, রমজানের আগের দিন থেকে শুরু করে ২৫ রমজান পর্যন্ত মোট ২৬ দিন রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব পণ্য সরবরাহ করা হবে। নির্ধারিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ক্রেতারা প্রতি কেজি ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি ২৪৫ টাকা, পাস্তুরিত তরল দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা, মুরগির ডিম প্রতিটি ৮ টাকা এবং গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকায় সংগ্রহ করতে পারবেন।
রাজধানীর বাইরেও এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগীয় পরিচালক ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকা শহরের বাইরেও বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। সেই অনুযায়ী সুবিধাজনক স্থানে সুলভ মূল্যে এসব পণ্য বিক্রির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তারা।
যেসব স্থানে মিলবে এই সুবিধা:
প্রাথমিকভাবে ঢাকা মহানগরী ও সিটি কর্পোরেশন এলাকার মোট ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই সাশ্রয়ী বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নির্দিষ্ট স্থানগুলোর তালিকায় রয়েছে - সচিবালয় সংলগ্ন আবদুল গনি রোড, খামারবাড়ি (ফার্মগেট), মিরপুর ষাট ফুট রাস্তা, আজিমপুর মাতৃসদন এলাকা, নয়াবাজার, উত্তরা হাউস বিল্ডিং, রামপুরা বাজার, হাজারীবাগ, আরামবাগ, কালশী, মানিকনগর, শাহজাদপুর, কড়াইল বস্তি এলাকা, কামরাঙ্গীরচর, খিলগাঁও, নাখালপাড়া, সেগুনবাগিচা, মোহাম্মদপুর, কাকরাইল, বনশ্রী, মিরপুর-১০, কল্যাণপুর, তেজগাঁও এবং ঐতিহ্যবাহী বঙ্গবাজার এলাকা।
এ ছাড়া চাহিদা বিবেচনায় এবং স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী স্পট নির্ধারণের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এই বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, রমজানে বাজারে মাংস, দুধ ও ডিমের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর ফলে সাধারণ ভোক্তারা বর্তমান চড়া বাজারের চাপ কাটিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় প্রাণিজ আমিষের সংস্থান করতে সক্ষম হবেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।