সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বাংলাদেশকে সতর্ক করলেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর হুমকি অত্যন্ত গুরুতর বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই হুমকিকে কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।

বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর আঞ্চলিক নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের সময়ের নিরাপত্তা নীতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, সে সময় বাংলাদেশকে চরমপন্থীদের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হওয়া ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গোয়েন্দা সক্ষমতা জোরদার করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা তাঁর সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে ছিল। উগ্রবাদ মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি জনগণের সম্পৃক্ততার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, উগ্রবাদী মতাদর্শ কোনো নির্দিষ্ট দেশের সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এ কারণে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিষয়টি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সাক্ষাৎকারের আরেক অংশে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনো ঠিক হয়নি, তবে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার প্রতিশ্রুতি থেকে তিনি সরে আসবেন না। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারত অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। শেখ হাসিনা ওই বিচার ও রায় প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।