শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতের লক্ষ্যে মাঠে নামলো সশস্ত্র বাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেটদের হাতেও বাড়তি ক্ষমতা

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতের লক্ষ্যে মাঠে নামলো সশস্ত্র বাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেটদের হাতেও বাড়তি ক্ষমতা

আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে আজ, রোববার, থেকে সারাদেশে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক ভোট নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


জানা গেছে, আজ থেকে ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য মাঠে নেমেছেন, যারা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রতিরোধ এবং আইন প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।


এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান আল মাসুদ সাংবাদিকদের বলেন, "সেনাবাহিনী আগে থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মাঠে ছিল। তবে, আজ রোববার থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম আরও জোরদার করবে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, ভোটের আগে ও পরে মোট সাত দিন তারা মাঠে অবস্থান করবেন। সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে তারা জানিয়েছেন যে, সারাদেশের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নির্বাচনের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ বিরাজ করছে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক পরিপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার জন্য পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্টগার্ড সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। এর পাশাপাশি, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর অধীনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।


প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন বাহিনীর সম্মিলিতভাবে মোট ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি সদস্য নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) থেকে থাকছেন ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন, সেনাবাহিনী থেকে ১ লাখ ৩ হাজার, নৌ-বাহিনী থেকে ৫ হাজার, এবং বিমান বাহিনী থেকে ৩ হাজার ৭৩০ জন সদস্য। এছাড়াও, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন, বাংলাদেশ পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ৯ হাজার ৩৪৯ জন এবং ৪৫ হাজার ৮২০ জন চৌকিদার ও দফাদার এই বিশাল নিরাপত্তা বলয়ে অংশ নিচ্ছেন।


পরিপত্রটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনী এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‍্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে বিজিবি, র‍্যাব, এপিবিএন এবং আনসার ব্যাটালিয়ন দায়িত্ব পালন করবে, এবং উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তার জন্য কোস্টগার্ডকে বিশেষভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। সকল বাহিনী নিজ নিজ এলাকার রিটার্নিং অফিসারের কাছে রিপোর্ট করবে এবং তাঁর নির্দেশনা ও পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।


নির্বাচন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা বিন্যাস সম্পর্কে জানা গেছে, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরের সাধারণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে ১৬ থেকে ১৭ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকবেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১৭ থেকে ১৮ জন করা হয়েছে। অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন এলাকার সাধারণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে ১৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ১৭ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। দেশের ২৫টি জেলাকে দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য ভোটগ্রহণের দুই দিন আগে থেকেই দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।