রাজবাড়ীর পাংশায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। মূলত অটোরিকশা চালক ও কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যকার বাগ্বিতণ্ডা ও মারামারির দৃশ্য স্মার্টফোনে ধারণ করার জের ধরেই এই সহিংসতা চালানো হয়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় পাংশা পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মৈশালা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। হামলায় আহত সাংবাদিক মো. আকাশ মাহমুদ (২৫) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আক্রান্ত আকাশ মাহমুদ দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক ‘কালের কণ্ঠ’-এর রাজবাড়ী জেলা মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘এনপিবি’-এর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এই ঘটনায় আকাশ ছাড়াও কলেজ শিক্ষার্থী সাগর শিকদারসহ আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় আকাশ মাহমুদ ও সাগর শিকদারকে দ্রুত পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে আহত সাংবাদিক আকাশ মাহমুদ জানান, গত বৃহস্পতিবার অটোরিকশা চালকদের সাথে কয়েকজন শিক্ষার্থীর তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার রেশ ধরে গতকাল শনিবার বিকেলে ছাত্র প্রতিনিধিরা মৈশালা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চালকদের সাথে বিষয়টি মিমাংসা করতে যান। কিন্তু সেখানে আলোচনা শুরু হতেই চালকরা সংঘবদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হলে আকাশ মাহমুদ তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে নিজের মুঠোফোনে সেই দৃশ্য ভিডিও করতে শুরু করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে চালকরা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন, তাঁর ফোনটি কেড়ে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজগুলো ‘ডিলিট’ করে দেন এবং পুনরায় তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। জীবন বাঁচাতে তিনি এক পর্যায়ে দৌড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম পুরো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল নাদুরিয়া ঘাটে এক নারী যাত্রীর সাথে অটোরিকশা ভাড়াকে কেন্দ্র করে। সেই সূত্র ধরে শিক্ষার্থীরা মৈশালা বাসস্ট্যান্ডে এসে প্রতিবাদ জানালে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার শিকার হন।
ওসি আরও জানান, নারী যাত্রীর সাথে অশালীন আচরণের অভিযোগে এক অটোরিকশা চালককে ইতিপূর্বেই আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তবে সাংবাদিকের ওপর হামলা কিংবা শিক্ষার্থীদের সাথে সংঘর্ষের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ বা ‘কেস’ করা হয়নি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ‘প্রসেস’ শুরু হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুনরায় সংঘাত এড়াতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।