যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আলোচনার দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত দিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শনিবার তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শিগগিরই পুনরায় শুরু হতে পারে। তবে একইসাথে তিনি তেহরানের নির্ধারিত 'সীমারেখা'র বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে যেকোনো ধরনের মার্কিন সামরিক হামলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি এই মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপ তিনি নিজের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন।
সাক্ষাৎকারে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীনভাবে জানান, শুক্রবার ওমানে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনায় তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের দর-কষাকষি হয়নি। তাঁর মতে, এই কর্মসূচি কখনোই আলোচনার বিষয়বস্তু হতে পারে না। তিনি বলেন, "এই কর্মসূচি নিয়ে কখনোই কোনো আপস করা হবে না।"
এই প্রেক্ষাপটে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, উক্ত বৈঠকে নেতানিয়াহু ইরানের বিতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির প্রসঙ্গটি জোরালোভাবে উত্থাপন করতে পারেন।
এর আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে কোনো প্রকার আক্রমণ পরিচালনা করে, তবে তেহরানও এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার দায়িত্বে থাকা দুই প্রধান মার্কিন আলোচক, স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার, সম্প্রতি আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পরিদর্শন করেছেন। এই ঘটনাকে অনেকেই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের একটি পরোক্ষ হুমকি হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে নিশ্চিত করেছে যে, এই দুই শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরিটি পরিদর্শন করেছেন।
ওমানের মাসকাটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত 'পরোক্ষ' আলোচনাকে একটি 'ভালো সুযোগ' এবং 'শুভ সূচনা' হিসেবে অভিহিত করে আব্বাস আরাগচি বলেন, পারস্পরিক আস্থা অর্জনের জন্য এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। আল-জাজিরাকে তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ ইরানের একটি 'অবিচ্ছেদ্য অধিকার' এবং এই কার্যক্রম অবশ্যই অব্যাহত থাকবে। তবে তিনি যোগ করেন, "এই কার্যক্রমের বিষয়ে একটি আস্থাশীল চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।" পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ইরানের পারমাণবিক সমস্যার সমাধান একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার জানিয়েছেন যে, ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন 'খুব ভালো আলোচনা' করেছে এবং ভবিষ্যতেও আরও আলোচনার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। তবে এই বক্তব্যের পরেও ট্রাম্প শনিবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে তিনি তেহরানের জ্বালানি তেল পরিবহনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।