জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার ন্যায়, নীতি ও সততার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন। তাঁর অভিযোগ, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তবে সচেতন জনগণ সরকারের পাশে থাকায় কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ব্যাহত করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নরসিংদী সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্যাতিত দুস্থ মহিলা ও শিশু কল্যাণ তহবিল থেকে মঞ্জুরিকৃত অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খায়রুল কবির খোকন।
অনুষ্ঠানে তিনি বিগত সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করেন। খোকন বলেন, অতীতে জনগণের জন্য বরাদ্দ করা টিআর, কাবিখাসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ সাধারণ মানুষ যথাযথভাবে পায়নি। তাঁর দাবি, তৎকালীন সরকারের জবাবদিহিতার ঘাটতির সুযোগে বিভিন্ন বরাদ্দের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে এবং এতে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন।
খায়রুল কবির খোকন আরও বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে ওই পক্ষ বিভিন্ন কর্মসূচি, লকডাউন বা অন্য অজুহাতকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক চক্রান্তের চেষ্টা করছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সুযোগ নেওয়াই এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জনগণের সচেতন ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের অপতৎপরতা বা অস্থিতিশীলতার মাধ্যমে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিরিন সুলতানা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্বাক্ষর চন্দ্র বনিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে নির্যাতিত দুস্থ মহিলা ও শিশু কল্যাণ তহবিল থেকে মঞ্জুরিকৃত অনুদান ৪১ জন উপকারভোগীর মধ্যে বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক উপকারভোগীকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এ অনুদানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীরা তাদের প্রয়োজনীয় কাজে কিছুটা আর্থিক সহায়তা পাবেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।