কয়েকটি ক্লিকেই এখন ঘরে বসে প্রয়োজনীয় নানা পণ্য কেনা যায়। সেই তালিকায় রয়েছে ওষুধও। প্রেসক্রিপশন অনলাইনে আপলোড করে বাসায় ওষুধ পাওয়ার সুবিধা থাকায় অনেকেই এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওষুধ কিনছেন। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচে। তবে এই সুবিধার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিও।
অনলাইনে ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে শুধু কম দাম, ছাড় কিংবা দ্রুত ডেলিভারিকে গুরুত্ব দিলে চলবে না। ওষুধের সঠিক নাম, উপাদান, শক্তি, উৎস, ব্যাচ নম্বর, মেয়াদ এবং সংরক্ষণব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। সরাসরি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন।
১. কীভাবে অর্ডার করছেন, তা আগে বুঝুন
অনলাইনে ওষুধ অর্ডারের পদ্ধতি একাধিক হতে পারে। প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কিছু ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ সরাসরি সার্চ করে কেনা যায়। আবার নির্দিষ্ট ওষুধ খুঁজে প্রেসক্রিপশন আপলোড করে অর্ডার দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধের ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মের কার্টে যুক্ত ওষুধগুলো প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ওষুধের নাম, মাত্রা ও শক্তি ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া দরকার।
হাতে লেখা প্রেসক্রিপশন আপলোডের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রয়োজন। কোনো প্ল্যাটফর্ম প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধের তালিকা ডিজিটালভাবে তৈরি করলে মূল প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে সেই তালিকা মিলিয়ে নিতে হবে। হাতের লেখা অস্পষ্ট হলে অনুমানের ভিত্তিতে ওষুধ না কিনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
প্রেসক্রিপশন যাচাইয়ের পর কোনো ওষুধ, মাত্রা বা শক্তিতে পরিবর্তন করা হলে তা গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. শুধু ছাড় দেখে ওষুধ কিনবেন না
অনলাইনে কোনো ওষুধে বড় ছাড় দেওয়া হচ্ছে দেখেই সেটি কিনে ফেলা ঠিক নয়। আবার কম দাম মানেই ওষুধটি নিম্নমানের এমন ধারণাও সঠিক নয়। মূল বিষয় হলো ওষুধের পরিচয় ও উৎস যাচাই করা।
কেনার আগে প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে ওষুধের সক্রিয় উপাদান, শক্তি ও ফর্মুলেশন মিলিয়ে দেখতে হবে। একই সঙ্গে ওষুধটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, অনুমোদিত প্রস্তুতকারক বা পরিবেশকের কাছ থেকে এসেছে কি না এবং ব্যাচটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি কি না, সেটিও যাচাই করা উচিত।
৩. সংরক্ষণ ও পরিবহণের বিষয়টি দেখুন
সব ওষুধ একইভাবে সংরক্ষণ করা যায় না। কিছু ওষুধ তাপমাত্রা, আলো কিংবা আর্দ্রতার প্রতি সংবেদনশীল। নির্ধারিত পরিবেশে সংরক্ষণ ও পরিবহণ না হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কোনো কোনো ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
তাই অর্ডার দেওয়ার আগে ওষুধটির বিশেষ সংরক্ষণব্যবস্থা প্রয়োজন কি না, তা জানা দরকার। একই সঙ্গে অর্ডার পাঠানোর আগে ওষুধটি কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পরিবহণের সময় প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা বজায় রাখা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে তাপমাত্রা-সংবেদনশীল ওষুধের ক্ষেত্রে পরিবহণে যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থা ছিল কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
৪. ওষুধের উৎস যাচাই করুন
ওষুধের প্যাকেটে থাকা বারকোড বা কিউআর কোড ওষুধ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাইয়ে সহায়তা করতে পারে। কোড স্ক্যান করে ওষুধের নাম, প্রস্তুতকারকের তথ্য, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ শেষের তারিখ এবং উৎসসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা দেখা যেতে পারে।
শুধু প্যাকেট দেখতে আসল মনে হচ্ছে বলেই ওষুধটিকে আসল ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্যাকেটে কিউআর কোড বা যাচাইয়ের অন্য কোনো ব্যবস্থা থাকলে সেটি ব্যবহার করে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া নিরাপদ।
৫. সেবনের আগে সব তথ্য মিলিয়ে নিন
ওষুধ হাতে পাওয়ার পর সেটি সরাসরি সেবন না করে প্রথমে প্রেসক্রিপশন ও ইনভয়েসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত। ওষুধের স্ট্রিপে থাকা ব্যাচ নম্বর ইনভয়েসের সঙ্গে মেলে কি না, মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কি না এবং স্ট্রিপে উল্লেখ করা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বা এমআরপি ইনভয়েসের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করতে হবে।
এ ছাড়া ওষুধের সক্রিয় উপাদান, শক্তি ও ফর্মুলেশন চিকিৎসকের প্রেসক্রাইব করা ওষুধের সঙ্গে মিলছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কোনো কারণে বিকল্প ব্র্যান্ড দেওয়া হলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা জেনে নেওয়া উচিত।
অনলাইনে ওষুধ কেনার সুবিধা সময় ও শ্রম বাঁচাতে পারে। তবে ওষুধের ক্ষেত্রে দ্রুত ডেলিভারি বা কম দামই শেষ কথা নয়। সঠিক ওষুধ, নির্ভরযোগ্য উৎস, যথাযথ সংরক্ষণ এবং প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে মিল এসব নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।