রূপপুরে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ড, তদন্তে নাশকতার বিষয়

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেইজে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের (বিএইসি) পাইওনিয়ার বেইজে আগুনের সূত্রপাত হলেও ঘটনাটি মঙ্গলবার জানা যায়।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাত ৩টার দিকে পাইওনিয়ার বেইজের একটি অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ও ধোঁয়া আশপাশের কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডের পর পাইওনিয়ার বেইজসহ বিএইসি এর আশপাশের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে বিএইসি এর ওই অংশের ইন্টারনেট সংযোগও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কাস্টমস বিল্ডিং ও ক্যান্টিনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বিএইসি এর রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মঙ্গলবার সকালে প্রকল্পের দায়িত্বশীল এক সূত্র জানায়, পাইওনিয়ার বেইজ রূপপুর প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের অংশ নয়। এটি প্রকল্পের একটি অক্সিলারী বা সহায়ক অংশ। ফলে অগ্নিকাণ্ডের কারণে প্রকল্পের মূল কার্যক্রমে কোনো ধরনের প্রভাব পড়েনি এবং প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

ওই সূত্র আরও জানায়, অগ্নিকাণ্ডে পাইওনিয়ার বেইজের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা প্রকল্পের দৃষ্টিকোণ থেকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে গভীর রাতে সংঘটিত এই অগ্নিকাণ্ড কোনো ধরনের নাশকতা বা স্যাবোটাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পের অভ্যন্তরে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। আগুনে বিএইসি-এর অফিসের বিভিন্ন কম্পিউটার, এসি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।’

পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী বলেন, ‘গভীর রাতে আগুনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমি এবং ইডি প্রকল্পে ছুটে যাই। ঈশ্বরদীর চারটি ইউনিট আপ্রাণ চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

ফলে অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের ধারণা সামনে এলেও ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে নাশকতা বা স্যাবোটাজের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।