বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে ২৫ এপ্রিল থেকে তিনি কারাবন্দি ছিলেন।
হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর একজন সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দীর্ঘ কয়েক বছর পর গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২২ এপ্রিল তাঁকে কুমিল্লা আদালতে সোপর্দ করার আগে ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে তাঁর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। অবশেষে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিননামা দাখিল করা হয়। কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানিয়েছেন, আদালতের জামিননামা যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের পর নিয়ম অনুযায়ী তাঁর মুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তনু হত্যা মামলার তদন্তের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যায়ে পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম জানান, জামিনের বিষয়টি তাঁরা অবগত হয়েছেন এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অব্যাহত রেখেছেন। হত্যাকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট বা সন্দেহভাজনদের আইনের আওতায় আনতে তদন্তকারী সংস্থা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল আদালতে মামলার অগ্রগতি জানাতে গিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার আবেদন করেছিলেন। ওই তিনজনের মধ্যে হাফিজুর রহমান ছাড়াও সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম রয়েছেন—যাঁরা বর্তমানে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে আছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরবর্তীতে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের পাশের ঝোপ থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাঁকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন সে সময় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তনু হত্যার বিচার না হওয়ায় জনমনে বরাবরই ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। হাফিজুরের এই জামিনপ্রাপ্তি নিয়ে এখন নতুন করে আইনি ও সামাজিক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।