টাকা গুনে পকেটে পুরতেই ভাইরাল ভিডিও; ফরিদপুরের সেই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডিসির বড় অ্যাকশন

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ভূমি সেবার নামে প্রকাশ্য দিবালোকে অর্থ লেনদেনের একটি ভিডিও ‘স্মার্টফোন’ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভাইরাস’-এর মতো ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে শুরু হয় তীব্র তোলপাড়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অভিযুক্ত ওই ভূমি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ইমরান শেখ, তিনি উপজেলার সাতৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

৫৯ সেকেন্ডের সেই চাঞ্চল্যকর ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, গাঢ় নীল রঙের ফুলহাতা শার্ট পরিহিত ইমরান শেখ তাঁর দাপ্তরিক চেয়ারে বসে অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে একজন সেবাগ্রহীতার সাথে দরকষাকষি করছেন। তিনি সেবাগ্রহীতাকে আশ্বস্ত করে বলছেন, ‘মূল দলিল বিকেলে দেবেন, ফটোকপি আমার কাছে আছে।’ এরপর ওই ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি গুনে গুনে ১০টি ৫০০ টাকার নোট (মোট ৫ হাজার টাকা) গ্রহণ করেন। টাকা নেওয়ার সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি মূল দলিল আজই দিন, রাতেই আবেদন করে দেব। সামনে রোববার এসি ল্যান্ড আসবে, ইনশা আল্লাহ দুই সপ্তাহ পার হবে না, কারণ স্যার খুব দ্রুত কাজ করেন।’

ভিডিওর সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি ছিল যখন ইমরান শেখ তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে নিজের তুলনা করেন। তিনি সেবাগ্রহীতাকে প্রশ্ন করেন, ‘স্যারের কথাবার্তা ভালো না? উনিও ৪০তম বিসিএস-এর, আমিও ৪০তম বিসিএস-এর। উনার কপাল ভালো, আল্লাহ উনাকে ক্যাডার বানাইছে আর আমারে নন-ক্যাডার বানাইছে।’ এই কথোপকথনের পরপরই তিনি টাকাগুলো নিজের পকেটে পুরে অন্য এক সেবাগ্রহীতার ফাইল নিয়ে আলাপ শুরু করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমরান শেখের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন। তিনি দেশ মিডিয়াকে বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই ঘুষের টাকা নয়। এটি মূলত ধারের টাকা ফেরত নেওয়ার দৃশ্য। অনেক মানুষ আমার কাছ থেকে টাকা ধার নেয় এবং পরে অফিসে এসে তা দিয়ে যায়। এটি তেমনই একটি মুহূর্ত।’ তবে কে সেই ব্যক্তি বা কেনই বা অফিসের চেয়ারে বসে এমন লেনদেন—তার কোনো সদুত্তর দিতে তিনি ব্যর্থ হন। এমনকি ওই টাকা প্রদানকারীর নাম প্রকাশ করতেও তিনি সরাসরি অস্বীকৃতি জানান।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ইমরান শেখকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। দাপ্তরিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনহয়রানি বন্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বহাল থাকবে। তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য, ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘদিনের হয়রানি এবং ডিজিটাল যুগে দুর্নীতির তথ্য ফাঁসের এই ঘটনাটি প্রশাসনের শুদ্ধাচার অভিযানের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিব্বির আহমেদকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।