চট্টগ্রামে নর্দমায় মিলল ১ হাজার ৩২০টি গুলি; বস্তাভর্তি এই মরণাস্ত্রের উৎস কোথায়?

চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় নর্দমার ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) বেলা আনুমানিক একটার দিকে শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকার একটি নর্দমা বা নালা থেকে মোট ১ হাজার ৩২০টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ গুলি মূলত ‘ব্যবহৃত’ বা ফায়ারিং করা বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া বিস্তারিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নালা থেকে প্রাপ্ত গুলির মধ্যে ১২০টি বড় আকারের এবং ১ হাজার ২০০টি ছোট আকারের। স্থানীয় বাসিন্দারা নালার ভেতরে একটি পরিত্যক্ত ও রহস্যজনক সাদা রঙের বস্তা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। এরপর বায়েজিদ বোস্তামি থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকাটি কর্ডন করে ফেলে এবং বস্তাটি উদ্ধার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে। বর্তমানে এই বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত গুলি পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বায়েজিদ বোস্তামি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোস্তফা কামাল বিষয়টি দেশ মিডিয়াকে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, “স্থানীয়দের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আমরা নালা থেকে এই ১৩২০টি ব্যবহৃত গুলি উদ্ধার করেছি। তবে এই গুলিগুলো ঠিক কোন ধরণের আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য ব্যবহৃত হয়, এগুলোর সঠিক উৎস কোথায় এবং কারা জনাকীর্ণ এই এলাকায় নর্দমায় এগুলো ফেলে রেখে গেছে—তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে আমরা ইতিমধ্যে আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও ‘ইনটেলিজেন্স’ বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছি।”

এদিকে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র মুহূর্তেই সাধারণ মানুষের ‘স্মার্টফোন’ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ‘প্ল্যাটফর্মে’ ভাইরাল হয়ে পড়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নর্দমার কাদা ও আবর্জনার ভেতর থেকে একটি সাদা রঙের পুরনো বস্তা টেনে বের করা হচ্ছে এবং সেখান থেকে গুলির খোলগুলো উদ্ধার করে নালার পাশে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। যদিও পুলিশ একে ব্যবহৃত গুলি হিসেবে দেখছে, তবুও একসাথে এত বিশাল সংখ্যক গুলির মজুদ একটি বিশেষ এলাকায় পাওয়া যাওয়ায় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা একে কোনো বড় ধরণের অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতা হিসেবে সন্দেহ করছেন। বর্তমানে পুরো এলাকাটিতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।