বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মঞ্চে যুক্ত হওয়া কিংবা বক্তব্য রাখার বিষয়ে সম্পূর্ণ দায় ঝেড়ে ফেলেছে ভারত সরকার। নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচির সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সংযোগ, সম্পর্ক বা লেনদেন নেই। এমনকি ওই ধরনের আয়োজনে শেখ হাসিনা যে ধরনের বক্তব্য বা মনোভাব প্রকাশ করতে পারেন, তা ভারত সরকার সমর্থনও করে না।
বুধবার নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেটস ক্লাবে (এফসিসি) শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল অংশগ্রহণ বা অডিও বার্তা দেওয়ার যে কর্মসূচি রয়েছে, তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই ঢাকার কূটনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তি বিরাজ করছিল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আপত্তির প্রেক্ষিতেই মূলত ভারত সরকারের এই অবস্থান স্পষ্ট হলো। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর কাছে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন যে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী বা আওয়ামী লীগের কোনো নেতা যেন ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সোয়াল হিন্দিতে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ‘রিস্তা’ বা সম্পর্ক নেই এবং সেখানে যেসব কথাবার্তা হতে পারে, তা সরকার কোনোভাবেই অনুমোদন করে না। এফসিসির সূচি অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় এই ভার্চ্যুয়াল আয়োজনে শেখ হাসিনার অডিও বার্তার পাশাপাশি দলটির একাধিক পলাতক নেতার সশরীরে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং বর্তমানে তিনি দিল্লির নিরাপত্তা বলয়ে অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ রয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকার তাঁকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধও জানিয়েছে।
ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি নিয়েও আলোকপাত করেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারপারসন হিসেবেই তাঁকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা আঞ্চলিক কূটনীতির প্রচলিত প্রথা।
গঙ্গার পানিচুক্তি নবায়ন সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে জয়সোয়াল জানান, দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন ব্যবস্থাপনার জন্য বিদ্যমান যুগ্ম নদী কমিশন (জেআরসি) এবং অন্যান্য কারিগরি কমিটির মাধ্যমেই এই সংক্রান্ত আলোচনা সম্পন্ন হবে। অর্থাৎ, গঙ্গা চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করেই উভয় দেশ সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।