বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-উভয়কেই সমান্তরাল গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দৃঢ়ভাবে মন্তব্য করেন, যারা একাত্তরের চেতনাকে বিস্মৃত হতে দিতে চায়, তারা প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাসী নয়। শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক এক প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একাত্তরকে সামনে রাখার অর্থ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে পেছনে ফেলে দেওয়া নয়। আমরা জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করতে পারি না, কারণ ফ্যাসিবাদী শক্তিকে উৎখাত করতে আমাদের অসংখ্য তরুণ প্রাণ দিয়েছেন।’ তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই বিপ্লব-উভয়কেই জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করে।
বিএনপি মহাসচিব এ সময় ধর্মের নামে দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভাজন তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনোভাবেই উগ্রবাদ ও মৌলবাদের জায়গা হবে না। বরং একটি উদারপন্থী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। মির্জা ফখরুল আরও যোগ করেন, বিএনপি কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে বিবেচনা করে না; প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রক্ষায় দল ও সরকার দায়বদ্ধ। বিগত নির্বাচনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে তিনি তাদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে বিএনপির আন্তরিকতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সকল নাগরিককে সমান চোখে দেখেন। তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এ সময় যেকোনো সামাজিক অস্থিতিশীলতা বা অপরাধের ঘটনার ক্ষেত্রে সঠিক ও নিরপেক্ষ তথ্য যাচাইয়ের ওপর জোর দেন। তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আহ্বান জানান।
সম্মেলনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের নিকট বেশ কিছু যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, নির্যাতন ও হামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং হিন্দু ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সরকারি ছুটির পরিধি বাড়ানো। এছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশনে রূপান্তরের দাবিও জানানো হয়েছে।
সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস এবং সঞ্চালনা করেন প্রদীপ কুমার আচার্য। এছাড়া অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরীসহ দেশের ৪৬টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকার ও প্রশাসনের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ কামনা করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।