ঘুমের ওষুধে সাময়িক স্বস্তি, বাড়তে পারে যে ঝুঁকি

রাতে ঘুম না এলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসি থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে সেবন করেন। এতে সাময়িকভাবে ঘুম এলেও নিয়মিত বা দীর্ঘদিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে তৈরি হতে পারে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকি। বিশেষ করে কিছু ঘুমের ওষুধে নির্ভরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা নিরাপদ নয়।

আসক্তি ও নির্ভরতা

ঘুমের ওষুধের অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর একই মাত্রায় আগের মতো কাজ নাও করতে পারে। ফলে কেউ কেউ নিজের ইচ্ছায় ডোজ বাড়ানোর চেষ্টা করেন, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এক পর্যায়ে ওষুধ ছাড়া ঘুমাতে সমস্যা হওয়ার অনুভূতিও তৈরি হতে পারে। এ কারণে দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ সেবনের অভ্যাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করাও ঠিক নয়।

স্মৃতি ও মনোযোগে প্রভাব

কিছু ঘুমের ওষুধ মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম ধীর করে ঘুম আনতে সাহায্য করে। এর ফলে পরদিন ঝিমঝিম ভাব, মনোযোগ কমে যাওয়া কিংবা স্মৃতিসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

তাই ঘুমের সমস্যা হলেই নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ শুরু না করে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।

সকালে ক্লান্তি

রাতে ওষুধ খেয়ে ঘুমালেও সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের ঝিমঝিম ভাব বা অবসাদ থাকতে পারে। এর ফলে দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা কিংবা গাড়ি চালানোর মতো কাজে মনোযোগ কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে ওষুধের প্রভাব শরীরে থেকে গেলে সকালে গাড়ি চালানো বা ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

শ্বাস-প্রশ্বাসের ঝুঁকি

কিছু ঘুমের ওষুধ শরীরের পেশি ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে এগুলো শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। যাদের আগে থেকেই ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ গ্রহণ বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এ ছাড়া কোন ওষুধ কীভাবে শরীরে প্রভাব ফেলবে, তা ওষুধের ধরন, মাত্রা, বয়স, অন্যান্য রোগ ও একই সঙ্গে ব্যবহৃত অন্য ওষুধের ওপর নির্ভর করে।

ঘুম জরুরি

ঘুম মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের সমস্যার সমাধান হিসেবে নিজের ইচ্ছায় ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট সময় ও নির্ধারিত মাত্রায় কিছু ক্ষেত্রে ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু সেটিকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা নিরাপদ নয়।

ঘুমের সমস্যা কমাতে নিয়মিত ঘুমের সময় মেনে চলা, রাতে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, ক্যাফেইন গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং মানসিক চাপ কমানোর মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা থাকলে কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।